দ্যাটস ওয়ান স্মল স্টেপ ফর ম্যান...
- ৫৭ বছর আগে চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষের পদচিহ্ন পড়ে। সেই গল্প ফিরিয়ে এনেছেন ইমরানুর রহমান

১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই। সকালের মিষ্টি রোদে ফ্লোরিডার কেপ কেনেডি স্পেস সেন্টারে দাঁড়িয়ে আছে এক দানবীয় রকেট— ‘স্যাটার্ন ফাইভ’। উচ্চতায় এটি প্রায় ৩৬ তলা বাড়ির সমান! এ রকেটের একেবারে চূড়ায় ছোট্ট একটি ক্যাপসুলে বসে আছেন তিনজন মানুষ— নীল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স। তাদের চোখেমুখে কোনো ভয়ের ছাপ নেই, আছে ইতিহাস গড়ার এক রোমাঞ্চ।
পৃথিবীর বুক কাঁপিয়ে, প্রচণ্ড গর্জন করে নীল আকাশে ডানা মেলল রকেটটি। লক্ষ্য? পৃথিবী থেকে বহু দূরের সেই রুপালি চাঁদ। মহাকাশযানটির প্রধান অংশ ছিল তিনটি— কমান্ড মডিউল ‘কলাম্বিয়া’ (যেখানে মহাকাশচারীরা থাকতেন), সার্ভিস মডিউল (জ্বালানি ও অক্সিজেনের জন্য) এবং চাঁদে নামার জন্য বিশেষ খেয়াযান লুনার মডিউল ‘ইগল’।
২১ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং মই বেয়ে চাঁদের মাটিতে নেমে এলেন
টানা তিন দিন মহাকাশের বুক চিরে চলার পর ১৯ জুলাই মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছায়। আর ২০ জুলাই এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন মূল যান থেকে আলাদা হয়ে ‘ইগল’-এ চড়ে বসলেন চাঁদের মাটিতে নামার জন্য। আর তাদের সঙ্গী মাইকেল কলিন্স একা একা ‘কলাম্বিয়া’ নিয়ে চাঁদের চারপাশে ঘুরতে লাগলেন, যাতে বন্ধুরা ফিরে এলে তাদের আবার বুকে টেনে নিতে পারেন।
ঘড়িতে তখন ফ্লোরিডায় রাত ২টা ১৭ মিনিট। পৃথিবী জুড়ে কোটি কোটি মানুষ তখন রেডিও আর টেলিভিশনের সামনে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে।
তখনই আর্মস্ট্রংয়ের শান্ত গলা ভেসে এলো— ‘হিউস্টন, ট্রানকুইলিটি বেস হেয়ার। দ্য ইগল হ্যাজ ল্যান্ডেড’ (ইগল সফলভাবে অবতরণ করেছে)। পৃথিবীর মানুষ যেন এতক্ষণে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল!
অবতরণের প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর, ২১ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং লুনার মডিউলের দরজা খুলে মই বেয়ে নিচে নেমে এলেন। চাঁদের মাটিতে জীবনের প্রথম পা রেখে তিনি বললেন সেই অমর বাণী— ‘দ্যাটস ওয়ান স্মল স্টেপ ফর (এ) ম্যান, ওয়ান জায়ান্ট লিপ ফর ম্যানকাইন্ড’। এর ঠিক ১৯ মিনিট পর চাঁদের মাটিতে পা রাখলেন বাজ অলড্রিন।




