স্মার্টফোন যখন নিজেই ফ্রেম সাজায়

মোবাইল প্রযুক্তির নৌকায় নতুন বদলের ঢেউ আসছে। এতে হাওয়া দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি রোবোটিকসও। লিখেছেন ইমরানুর রহমান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর আধুনিক রোবোটিকসের অভূতপূর্ব সংমিশ্রণে বিশ্ব জুড়ে প্রযুক্তিপণ্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। শুধু স্ক্রিনের স্পর্শে চলা বা ছবি তোলার প্রথাগত ধারণা ভেঙে স্মার্টফোন এখন একটি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ডিভাইসে রূপ নিচ্ছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় অনারের ‘রোবট ফোন’ এক নতুন সংযোজন। সাধারণ স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে এটি এমন এক প্রযুক্তি, যা ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার বার্তা নিয়ে এসেছে।
সাধারণ স্মার্টফোনের মূল কাজ ব্যবহারকারীর হাত বা কমান্ডের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু অনারের প্রদর্শিত এই রোবট ফোনটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত মেকানাইজড গিম্বল সিস্টেম ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ট্র্যাকিং অ্যালগরিদম।
ফোনটি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিলে ভেতরের এআই সেন্সর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চারপাশের পরিবেশ ও মানুষের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে। কোনো বিষয়বস্তু বা ব্যক্তি যখন এর ফ্রেমের ভেতর দিয়ে নড়াচড়া করে, তখন ক্যামেরাটি নিজস্ব মেকানাইজড মোশনের সাহায্যে তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে। প্রযুক্তিপ্রেমীদের পাশাপাশি মিডিয়া ও চলচ্চিত্র জগতের মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, মোবাইল ফিল্মমেকার ও সিনেমাটোগ্রাফারদের জন্য এটি কাজের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে অনারের এই রোবট ফোনটি সরাসরি পরখ করে দেখেন দেশের আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফী। ডিভাইসটির কার্যকারিতা ও গতিশীলতা নিয়ে তিনি জানান, বড় আকৃতির প্রথাগত ফিল্ম ক্যামেরা দিয়ে অনেক সময় জটিল দৃশ্যগুলো ধারণ করা সম্ভব হয় না। গাড়ির ভেতরের সংকীর্ণ জায়গা বা অপ্রশস্ত কোণ থেকে নিখুঁত শট নেওয়া অনেক বেশি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। রোবট ফোনের বিশেষ ক্যামেরা ডিজাইন এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে দারুণ এক সমাধান হতে পারে।
প্রথাগত ভিডিওগ্রাফিতে চলন্ত দৃশ্যের ক্ষেত্রে সিনেমাটোগ্রাফারকে ক্যামেরা হাতে বা ট্র্যাকিং রিমোটের সাহায্যে চরিত্রের পেছনে দৌড়াতে কিংবা প্যান করতে হয়। কিন্তু রোবট ফোন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটিকে যেকোনো স্থানে বা সারফেসে বসিয়ে দিলে এর এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাবজেক্টের গতিবিধি শনাক্ত করে ক্যামেরা প্যান, টিল্ট ও ট্র্যাক করতে পারে। কেউ যখন দ্রুত দৌড়ায় বা হাঁটে, ক্যামেরাটি নিজে থেকেই তার ভারসাম্য রেখে মসৃণভাবে ভিডিও শট বজায় রাখে।



