আবার আতঙ্ক এআই
- ৩ প্রতিষ্ঠানকে হ্যাক করেছে জেমিনি, স্বীকার গুগলের

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা! সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)। মেটা, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইর মডেলগুলোর অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই ধূমকেতুর মতো উদয় হলো আরেক নতুন আতঙ্ক। এবার গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘জেমিনি’। মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই তিনটি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে সুরক্ষিত ডিভাইসে ঢুকে পড়েছিল। ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের মে মাসে। তবে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ করে। পরদিন শনিবার এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স ও বিবিসি। গুগলের দাবি, তাদের কোনো এআই সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার এটিই প্রথম ঘটনা। রয়টার্স।
ঘটনাটি ঘটে সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষার সময়। স্বাধীন সংস্থা ‘ইরেগুলার’ ওই পরীক্ষা চালাচ্ছিল। পরীক্ষায় জেমিনিকে একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য খুঁজে বের করার কাজ দেওয়া হয়েছিল। সেই তথ্য খুঁজতে গিয়ে জেমিনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যায়। এরপর অনলাইনে প্রকাশ্যে থাকা তথ্য খুঁজে তিনটি বাস্তব সংস্থার ওয়েবসাইটে ঢোকার চেষ্টা করে এআই মডেলটি। জেমিনি মনে করেছিল, ওই ওয়েবসাইটগুলোও পরীক্ষার অংশ।
তিনটি ঘটনার মধ্যে একটিতে জেমিনি বারবার পাসওয়ার্ড অনুমান করে শেষ পর্যন্ত একটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষিত অনলাইন ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে। অন্য দুটি ক্ষেত্রে প্রকাশ্য অনলাইন ভাণ্ডারে থাকা পরিচয়পত্র খুঁজে নিয়ে সেগুলো ব্যবহার করে সুরক্ষিত ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। তবে তিনটি ক্ষেত্রেই পুরোপুরি কোনো ক্ষতিকর কাজ শেষ করার আগেই নিজে থেকে থেমে যায় জেমিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ওই তিন সংস্থার নাম বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিনস বিবিসিকে জানিয়েছেন, একটি সাধারণ পরীক্ষার অংশ হিসেবে জেমিনি ইন্টারনেটে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করে এবং পরীক্ষার আওতাভুক্ত মনে করা কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য লগইন তথ্য অনুমান করে।
তিনি আরও বলেছেন, তিনটি ঘটনার প্রতিটিতেই জেমিনি শেষ পর্যন্ত নিজে থেকেই বন্ধ করে দেয় ওই কার্যক্রম। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় জেমিনি প্রবেশ করেছিল, তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ অংশীদারের সঙ্গে কাজ করেছে গুগল।
কয়েক সপ্তাহ আগেই সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে। তবে জেমিনির আগে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে অন্য এআই মডেল নিয়েও। মেটা, অ্যানথ্রপিক এবং ওপেনএআইর মডেলকে নিয়ে ইরেগুলারের পরীক্ষায়ও নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড’ পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় নিজে থেকে ঢুকে পড়েছিল। তবে ক্লড বাস্তব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় ঢোকার বিষয়টি বুঝতে পারার পরও থামেনি বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। এর আগে ওপেনএআইও জানিয়েছিল, তাদের কয়েকটি মডেল নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় নির্ধারিত কাজের বাইরে গিয়ে প্রকাশ্যে থাকা কয়েকটি অনলাইন ব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছিল।



