বর্ষার ছড়া-কবিতা

ছবি এঁকেছেন রজত
মিষ্টি ছোঁয়া
সোমা মুৎসুদ্দী
বৃষ্টি দিনের মিষ্টি ছোঁয়া
লাগল মনে বেশ
রুম ঝুমাঝুম বৃষ্টিতে আজ
ভিজল সারা দেশ।
টুপুর-টাপুর বৃষ্টি ফোঁটা
কচুপাতায় জল
তারই সাথে বৃষ্টিভেজার
নামল বুঝি ঢল।
গল্প হবে দাদির সাথে
বৃষ্টিভেজা দিনে
শৈশবেরই দিনগুলোকে
নিলাম আবার চিনে।
ইষ্টি বৃষ্টি
ফয়সাল আলম
ইষ্টি হলো বৃষ্টি হলো বৃষ্টি এলো ইষ্টি
ইলিশ ভাজা ইলিশ ভাজা আহা! দারুণ কৃষ্টি।
ডালে ডালে সবুজ পাতা হৃদ মাজারে তুষ্টি
বাদলা হাওয়ায় মন খুলে দেয় বদ্ধ দুয়ার মুষ্টি।
বৃষ্টি ছোঁয়ায় হৃদয় দোলায় আহা কী যে মিষ্টি
দুহাত মেলো নাও যে ছুঁয়ে কী অপূর্ব সৃষ্টি!
যাও উড়ে যাও মেঘের ভেলায় সব ছাড়িয়ে দৃষ্টি
ইষ্টি হলো বৃষ্টি এলো বৃষ্টি এলো ইষ্টি!
ঝমঝমা ঝম ঝম
রকিবুল ইসলাম
ঝমঝমা ঝম ঝম
বিষ্টি নামে বিষ্টি নামে
আকাশ জুড়ে মেঘের মেজাজ
থমথমা থম থম।
দূরের বনে সন্ধ্যা নামে
পাখির নাচনকোঁদন থামে
আউলা বাতাস ছুটতে থাকে
রমরমা রম রম।
রাখাল চাষি দূরের বিলে
ছুটতে থাকে সবাই মিলে
আকাশ কাঁপে জমিন কাঁপে
গমগমা গম গম;
বিষ্টি নামে বিষ্টি নামে
ঝমঝমা ঝম ঝম।
আষাঢ়
হাফিয রেদওয়ান
আষাঢ় এলো
ভরে গেল
থৈ থৈ পানি।
ডোবা নালা
শোভা পেল
হলো যে রানী।
কালো মেঘে
বিষ্টি ঝরে
টাপুর-টুপুর।
ছন্দ তালে
নাচন করে
জলের নূপুর।
আষাঢ়ের নদীনালা
মজনু মিয়া
মেঘলা আকাশ মেঘে ঢাকা
গুড়ুম গুড়ুম দিচ্ছে ডাক,
‘কই গেলি রে সোনা আমার’
মায়ের এমন করুণ হাঁক।
আষাঢ় মাসের নদীনালা
জলে জলে থইথই,
পানকৌড়ি বক শালিকরা
করে বেড়ায় হইচই।
ছোট মাছের ঝাঁক পাওয়া যায়
ধরে হাত ছোট জালে,
আষাঢ় মাসের ব্যাঙের ডাকে
জলের নাচ তালে তালে।
মেঘের ছানা
শাহরিয়ার শাহাদাত
বর্ষারঙে মেঘেরছানা
রঙ ছড়ালো
ঝাপুর-ঝুপুর টাপুর-টুপুর
জল গড়ালো।
বিষ্টিমেয়ে সারাটা দিন
ভিজতে রাজি
গুড়ুম গুড়ুম শব্দ করে
মেঘ বাবাজি!
অথৈ জলে মাঠগুলো
খায় হাবুডুবু
ফিঙের ছানা ভিজেই
হলো জবুথবু।
বিষ্টি ছুঁয়ে সবুজপাতা
দুলকি দুলে
বিষ্টিফোঁটা হীরের কুচি
কদম ফুলে!
মেঘছানারা ডানপিটে খুব
সবাই রাজা
তারাও কি খায় খিচুড়ি আর
ইলিশ ভাজা?
আইফামণি খুলল এখন
আঁকার খাতা
আঁকবে তাতে, বাবার হাতে
রঙিন ছাতা।




