টার্মিনোলজি
ক্লেপ্টোমেনিয়া

ঝুমবৃষ্টির রাতে বিলাসবহুল শপিংমলে এক নারী ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ধনকুবের স্বামীর ক্রেডিট কার্ড তার ব্যাগে, কিন্তু চোখজোড়ায় এক অদ্ভুত উন্মাদনা। আচমকাই অতি সাধারণ একটি প্লাস্টিকের চিরুনি চুপিসারে পকেটে পুরে ফেললেন তিনি! গায়ের রক্তে যেন বিদ্যুতের ঝলকানি খেলে গেল, বুক চিরে নেমে এলো এক অখণ্ড শান্তি। এই যে তুচ্ছ জিনিস চুরি করার অদ্ভুত রোমাঞ্চ— এটির নামই ক্লেপ্টোমেনিয়া।
এটি কোনো অভাবের তাড়না নয় কিংবা কোনো চোর-ডাকাতের ছক-কষা অপরাধ নয়। ক্লেপ্টোমেনিয়া হলো মনস্তত্ত্বের এক অন্ধকার ও রোমাঞ্চকর অলিগলি, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার সমস্ত ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। চুরি করার ঠিক আগের মুহূর্তে মনের ভেতর তৈরি হয় অসহ্য টানটান উত্তেজনা, আর চুরি শেষ হতেই নেমে আসে পরম তৃপ্তি— যার পরপরই আবার গ্রাস করে তীব্র অনুশোচনা ও অপরাধবোধ।
এর সবচেয়ে সাড়াজাগানো বাস্তব উদাহরণ ছিলেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী উইনোনা রাইডার। ২০০১ সালে নিউ ইয়র্কের এক অভিজাত শোরুম থেকে কয়েক হাজার ডলারের জামাকাপড় চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। নিজের অঢেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন এমন করলেন? উত্তরটা লুকিয়ে ছিল এই মানসিক ফাঁদেই।
উনিশ শতকে ফ্রান্সের রাজা ফ্রেডেরিক দ্য গ্রেটের রাজসভার অন্যতম সম্মানিত লেখক ও দার্শনিক ভলতেয়ার-এর এক সহকারীর মধ্যে এমন বাতিক ছিল।
আরও একটি রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক উদাহরণ পাওয়া যায় ১৮ শতকের ফরাসি অভিজাত কবি ও নাট্যকার লেডি ক্যারোলিন ল্যাম্ব-এর জীবনে। লর্ড বায়রনের এই সাবেক প্রেমিকা অভিজাত পার্টিতে যেতেন শুধু অতিথিদের মূল্যবান বা অদ্ভুত কোনো স্মৃতিচিহ্ন চুরি করতে। ড্রয়ার ভর্তি করে রাখতেন অন্য কারও বাড়ি থেকে আনা সস্তা বা দামি খুচরো জিনিসপত্র। ধরা পড়ার পর অনুশোচনায় কাঁদতেন, অথচ পরের পার্টিতে গিয়ে একই কাজ করতেন!







