ক্রাইম মুমি
এম

চলচ্চিত্র ইতিহাসে ক্লাসিক ধারার মুভিগুলোর কথা উঠলে ফ্রিৎস ল্যাংয়ের ১৯৩১ সালের জার্মান মাস্টারপিস ‘এম’ নামটি সবার আগে আসে। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ও ক্রাইম জনরার এই চলচ্চিত্র শুধু সে সময়ের নয়, বরং সর্বকালের অন্যতম সেরা এবং প্রভাবশালী একটি সিনেমা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সিনেমার মূল প্রেক্ষাপট বার্লিন শহর। যেখানে এক সিরিয়াল কিলার একের পর এক ছোট শিশুকে খুন করে পুরো শহরকে ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছে। পুলিশ খুনিকে খুঁজতে গিয়ে যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ও অপরাধীরা পর্যন্ত শিশু খুনির বিরুদ্ধে একজোট হয়। কারণ, পুলিশের অতিরিক্ত ধরপাকড়ে তাদের নিজেদের অপরাধের ব্যবসা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত অপরাধীদের একটি গোপন আদালত ওই খুনিকে ধরে বিচারে দাঁড় করায়, যা আইন ও ন্যায়বিচারের এক ভিন্ন রূপ তুলে ধরে।
সিনেমায় শিশু খুনি হ্যান্স বেকার্ট চরিত্রে অসামান্য অভিনয় করে অমর হয়ে আছেন অভিনেতা পিটার লোরি। তার সেই ভয়ার্ত দৃষ্টি, মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রকাশ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া কান্নায় ভরা শেষ জাস্টিফিকেশন বা বক্তৃতা দর্শকের মনে আজও শিহরণ জাগায়।
প্রযুক্তিগত ও শৈল্পিক দিক থেকেও ‘এম’ একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি। এটি জার্মান চলচ্চিত্রকার ফ্রিৎস ল্যাংয়ের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র। সেই যুগের নিরিখে সাউন্ড ইফেক্ট, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, ছায়া ও আলোর দারুণ ব্যবহার (জার্মান এক্সপ্রেশনিজম) সিনেমাটিকে অনন্য উচ্চতা দিয়েছিল। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ও পুলিশ প্রসিডিউরাল ছবির ভিত রচনা করেছিল এই সিনেমা।



