অমীমাংসিত
হিন্টারকাইফেকের ভয়ংকর কাণ্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
৩১ মার্চ ১৯২২। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাভেরিয়ার নির্জন হিন্টারকাইফেক খামারবাড়িতে এলেন নতুন গৃহপরিচারিকা মারিয়া বাউমগার্টনার। তার বোন কিছুক্ষণ সঙ্গে ছিলেন, তারপর চলে গেলেন। বাড়িতে তখন কৃষক আন্দ্রেয়াস গ্রুবার, তার স্ত্রী ক্যেৎসিলিয়া, মেয়ে ভিক্টোরিয়া, ভিক্টোরিয়ার সাত বছরের মেয়ে ক্যেৎসিলিয়া, দুই বছরের ছেলে ইয়োজেফ ও মারিয়া।
এটাই ছিল মারিয়ার প্রথম দিন। কিন্তু কেউ জানত না, রাত নামার কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ির ছয়জন মানুষ আর জীবিত থাকবেন না। সেই রাতে ঠিক কখন হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে ধারণা করা হয়, চার সদস্য— আন্দ্রেয়াস, ক্যেৎসিলিয়া, ভিক্টোরিয়া ও সাত বছরের ক্যেৎসিলিয়া গোয়ালঘরের দিকে গিয়েছিলেন বা তাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ভারী একটি কৃষিযন্ত্রের আঘাতে তারা নিহত হন।
সাত বছরের ক্যেৎসিলিয়া আঘাতের পরও কিছু সময় জীবিত ছিল এবং নিজের চুল টেনেছিল। কতক্ষণ সে বেঁচেছিল, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। এরপর বাড়ির ভেতরে মারা যান মারিয়া ও সবার ছোট ইয়োজেফ।
পরদিন সকালে বাইরে থেকে খামারবাড়িটি স্বাভাবিকই মনে হতে পারত। কিন্তু কেউ বেরোলেন না। ক্যেৎসিলিয়া স্কুলে গেল না। দুই কফি বিক্রেতা এসে কাউকে পেলেন না। রবিবার পরিবারটি গির্জায় এলো না। ৩ এপ্রিল ডাকবাহকও সাড়া পাননি। অথচ ভেতরে তখন ছয়টি মরদেহ পড়ে ছিল।
৪ এপ্রিল সকালে মেরামতের কাজে এলেন আলবার্ট হফনার। কাউকে না পেয়ে তিনি অপেক্ষা করলেন, তারপর একাই ইঞ্জিন মেরামত করে চলে গেলেন। বিকালে প্রতিবেশী লরেৎস শ্লিটেনবাউয়ার খোঁজ নিতে ছেলে ও সৎছেলেকে পাঠালেন। তারাও কাউকে না পেয়ে ফিরে এলো। শেষে শ্লিটেনবাউয়ার নিজে মিখায়েল প্যোল ও ইয়াকব সিগলকে নিয়ে গেলেন। তখনই হত্যাকাণ্ডের কথা জানা গেল। গোয়ালঘরে ছিল চারজনের মরদেহ, বাড়ির ভেতরে মারিয়া ও ইয়োজেফের।
হত্যার আগের দিনগুলোতেই যেন কিছু একটা ঘনিয়ে আসছিল। ৩০ মার্চ তুষারের ওপর জঙ্গলের দিক থেকে খামারের দিকে এগিয়ে আসা পায়ের ছাপ চোখে পড়ে। সেগুলো এসে থেমেছে খামারেই, ফিরে যাওয়ার কোনো ছাপ নেই। কথাটা আন্দ্রেয়াস নিজেই প্রতিবেশীদের বলেছিলেন বলে পরে সাক্ষ্যে ওঠে। একটি চাবিও হারিয়ে গিয়েছিল। আর চিলেকোঠা থেকে শোনা যাচ্ছিল শব্দ। হত্যার অস্ত্র পেতে তদন্তকারীদের বেশি খুঁজতে হয়নি। কোদালজাতীয় ভারী একটি কৃষিযন্ত্র খামারবাড়ির চিলেকোঠাতেই পান।
সন্দেহের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম লরেৎস শ্লিটেনবাউয়ার। ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, ছোট ইয়োজেফের পিতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল আর হত্যার পর তিনিই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবু তাকে হত্যার সঙ্গে জড়ানোর মতো চূড়ান্ত প্রমাণ কখনো মেলেনি।
কেউ কেউ মনে করেন, খুনি পরিচিত কেউ, যে খামারবাড়ির পরিবেশ ভালো করে জানত, এমনকি হয়তো আগে থেকেই ভেতরে বা আশপাশে লুকিয়ে ছিল। তুষারের ওই ছাপ আর চিলেকোঠার শব্দকে এই মতের পক্ষে দেখানো হয়। কিন্তু এগুলোও অনুমান।
হত্যার পরও কেউ বাড়িতে ছিল কি না, সেটিও রহস্যের অংশ। পশুদের দেখাশোনা, খাবার ব্যবহার, চিমনির ধোঁয়া— পরবর্তী বর্ণনায় এমন কিছু তথ্য আছে। ১৯২৩ সালে খামারবাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়।



