মস্তকবিহীন প্রাণী ও ভুতুড়ে ঘোড়া

আঁকা : অনন্যা প্রমা
বাবা মারা যাওয়ার পর যখনই বাবার জীবনের স্মরণীয় ঘটনার কথা তুলতাম, মা ভারতের আসামে বাবার ভৌতিক অভিজ্ঞতার কথা বলতেন। বাবা ঘটনাটি মাকে যুগল জীবনে প্রবেশের পর বলেছেন। শৈশবে বাবা ছিলেন ভীষণ ডানপিটে। তখন আসামে কোনো এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন বেশ কিছুদিন। অনতিদূরে পাহাড়ের রাজ্য। আত্মীয়ের বাড়ির কাছের একটি পাহাড় নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল। ওপরে ওঠা নিষেধ ছিল। সবাই মেনে চলত। এক পড়ন্ত বিকালে বাবা সাহস করে নিষিদ্ধ পাহাড়ে উঠলেন। পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠা যতটা সহজ মনে করেছিলেন, ততটা সহজ ছিল না। কিছুদূর ওঠার পরই ক্লান্ত হয়ে গেলেন। ততক্ষণে সন্ধ্যার আঁধারে ঢেকে গেছে চারপাশ। এ সময়ই মাথাবিহীন বেশ বড় আকৃতির মানুষের মতো একটা প্রাণী দেখলেন। আরও ভয়ংকর ব্যাপার, ওটার সারা শরীরে আনারসের মতো চোখ, যেগুলো জ্বলজ্বল করছিল। এ প্রাণীটা এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে যাচ্ছিল। বাবা ভয়ে দৌড়াতে লাগলেন। পাহাড় থেকে নিচে নেমে তারপর এক ছুটে সেই আত্মীয়ের বাড়িতে। আর আসার পরই তীব্র জ্বরে পড়লেন। এ জ্বর তিন দিন রইল। পরে যখন বাবা একটু সুস্থ হলেন, ঘটনা খুলে বললেন সবাইকে। স্থানীয় বয়স্করা বললেন, আনারসের মতো চোখওয়ালা মাথাবিহীন যে প্রাণীটা বাবা দেখেছিলেন, সেটি পাহাড়েই থাকে। এ জন্যই পাহাড়ে ওঠা নিষেধ ছিল।
দুই
মবিন আঙ্কেল একটা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বৈচিত্র্যময় বিষয়ে তার ভীষণ আগ্রহ। কত ধরনের বই যে পড়তেন। ডিউটি আর গল্পগুজব শেষে অনেক সময় তিনি বাসায় ফিরতেন রাত করে। শীতে গ্রামাঞ্চলে ১০টা মানে গভীর রাত। রাস্তায় কোনো মানুষজন থাকত না। বাজার ঘুরে এলে অনেক সময় লাগত। শ্মশানের রাস্তা দিয়ে এলে কম সময়ে আসা যেত। আঙ্কেল ছিলেন প্রচণ্ড সাহসী একজন মানুষ। এক শীতের রাতে আমাদের ঘুম ভাঙল এক শব্দে। মবিন আঙ্কেলের ঘর থেকেই আসছে। প্রথমে ভেবেছি, ডাকাত হামলা করেছে। পরে ঘরে গিয়ে সবাই দেখি, আঙ্কেল অজ্ঞান হয়ে আছেন। ঘরোয়া যত্নআত্তি নেওয়া হলো। জ্ঞান ফিরল; কিন্তু মুখে কিছু বললেন না। শরীর কেঁপে কেঁপে জ্বর এলো। এ জ্বর কয়েক দিন ভোগাল। আঙ্কেল
সহজে স্কুলে যাওয়ার জন্য শ্মশানের যে পথটা আমরা ব্যবহার করতাম, মবিন আঙ্কেল রাত ১২টার সময় সে পথ ধরে আসছিলেন। আঙ্কেলের হাতে ছোট টর্চলাইট। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হঠাৎ দেখলেন, সম্পূর্ণ রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক ঘোড়া। একটু জায়গাও নেই ওটাকে পাশ কাটিয়ে রাস্তা পার হওয়ার। এক পাশে জঙ্গল, আরেক পাশে পুকুর। এত রাতে রক্ত-মাংসের কোনো ঘোড়া এখানে আসার সুযোগ নেই। যতই শব্দ করেন, ঘোড়ার কোনো তাগাদা নেই রাস্তা থেকে সরার। আঙ্কেল ঘামতে থাকলেন। কী করবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। অনেক কষ্টে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলেন। এরপর ঘোড়াটি ধুপ করে পাশের পুকুর ঠিক যেন ঝাঁপ দিল। তিনি দৌড়ে বাসায় চলে এলেন। পুরো ঘটনা শুনে আমাদের গায়ের রোম যেন খাড়া



