দেও-দানো

বাঙালি গ্রামীণ লোককথায় দেও বেশ পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পুকুর, ডোবা, নদী কিংবা গভীর জলাশয়ের পানির নিচে এদের বাস। গ্রামবাংলার বিভিন্ন জলাশয়কে ঘিরে দেও ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, গভীর পানির নিচে পলিমাটি ও শ্যাওলা জমে অন্ধকার পরিবেশ তৈরি হলে সেখানে দেও বাস করে। পানির ওপর থেকে তাদের উপস্থিতি বোঝা যায় না বলে বিশ্বাস করা হয়।
দেও ভূতের জীবনযাপন সম্পর্কে লোককথায় বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এরা হিংস্র ও শিকারি স্বভাবের। পানির নিচে গভীর অন্ধকার জায়গায় শিকারের অপেক্ষায় থাকে। দেও কী খায় বা তাদের পোশাক কেমন, তা নিয়েও বিভিন্ন কথা প্রচলিত রয়েছে। কারও মতে, তাদের শরীরে জলজ আগাছা বা শ্যাওলার মতো কিছু থাকে, যা পানির সঙ্গে মিশে যায়। আবার কারও ধারণা, এরা কোনো পোশাক ছাড়াই জলজ দানবের মতো ঘুরে বেড়ায়।
দেও ভূত নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত গল্প হলো, একা স্নান করতে নামা মানুষকে এরা পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। লোকমুখে শোনা যায়, কেউ একা পুকুর বা নদীতে নামলে দেও তার পা ধরে গভীর পানিতে নিয়ে যায়। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার পর শ্বাস নিতে না পেরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ ধরনের ঘটনা রহস্যময় মনে হওয়ায় অনেকে এর জন্য দেও ভূতকে দায়ী করেন।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেও ভূত জলাশয়ের আশপাশে অদ্ভুত শব্দও করতে পারে। পানির নিচে বুদবুদ তৈরি করা, হঠাৎ ঢেউ তোলা কিংবা পানিতে অস্বাভাবিক নড়াচড়া ঘটানোর গল্পও শোনা যায়।
দেও ভূতের গল্পের পেছনে মানুষকে জলাশয়ের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার বিষয়টি থাকতে পারে। আগে গ্রামের মানুষ পুকুর, ডোবা ও নদীতে স্নান করতেন। গভীর পানিতে একা নামা বা অসতর্কভাবে সাঁতার কাটা ছিল বিপজ্জনক। তাই শিশুদের গভীর পানিতে নামা থেকে বিরত রাখতে এ ধরনের লোককথার প্রচলন হয়ে থাকতে পারে।



