মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মাদ্রাসায় আগুন

আটক মাদ্রাসা শিক্ষক
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামাণিককে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত নুরানী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী।
আটক আবু ইউসুফ প্রামাণিক পাশের সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালনা ও শিক্ষকতার দায়িত্বে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছেন ইউসুফ। মাদ্রাসায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় তিনি স্ত্রীসহ সেখানে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাড়িতে যাওয়ায় তিনি মাদ্রাসায় একা ছিলেন। গভীর রাতে নাজেরা বিভাগের এক ছাত্রী বাইরে বের হলে ইউসুফ তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে টেনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে ওই ছাত্রী পালিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন একত্র হয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে পুলিশকে খবর দেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষককে আটকের পর উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



