টিকিটের চেয়ে খরচ বেশি পার্কিংয়ের!

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্ব জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার কমতি নেই। কিন্তু এই মহোৎসবের আনন্দ আর উন্মাদনার মাঝখানে একটি অদ্ভুত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অস্বস্তিকর বিষয় নজর কেড়েছে। আর তা হলো স্টেডিয়ামের আশপাশে গাড়ি পার্ক করার আকাশছোঁয়া খরচ। কাপের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে বা আগের আসরগুলোর কথা ভাবলে পার্কিং নিয়ে দর্শকদের এত দুশ্চিন্তা করতে হতো না। একটা সময় ছিল, যখন খেলা দেখার মূল খরচ বলতে মানুষ বুঝত কেবল স্টেডিয়ামে প্রবেশের টিকিট আর যাতায়াতের খরচ। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ, ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের কথা যদি চিন্তা করি, তবে দেখব সেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল অনেকটাই দর্শকবান্ধব।
স্টেডিয়ামের আশপাশে অনেক ক্ষেত্রেই বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে গাড়ি রাখার চমৎকার ব্যবস্থা থাকত।
কিন্তু সময় বদলেছে, আর সেই সঙ্গে বদলে গেছে বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনের অর্থনীতির বিশাল হিসাবনিকাশও।
যখন লাখ লাখ মানুষ খেলা দেখতে আসবেন এবং তাদের বেশিরভাগই গাড়ি নিয়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই পার্কিংয়ের চাহিদা আকাশ ছুঁয়ে যাবে। চাহিদার এই বিশাল চাপকে পুঁজি করে পার্কিং ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এমন এক পর্যায়ে, যা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফাই স্টেডিয়ামের কথা। এই অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামে একটি সাধারণ ম্যাচের দিন গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য দর্শককে গুনতে হতে পারে আড়াইশ থেকে তিনশ ডলার পর্যন্ত। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে যা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম। সেখানেও গাড়ি রাখতে আপনাকে গুনতে হবে পৌনে দুইশ থেকে আড়াইশ ডলারের মতো বিশাল অঙ্কের টাকা। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো, এবারের বিশ্বকাপে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম দুইশ ডলারের নিচে রাখা হয়েছে। এর মানে হলো, আপনি হয়তো দেড়শ ডলার দিয়ে মাঠে বসে খেলা দেখার টিকিট পেলেন; কিন্তু সেই মাঠে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত আপনার নিজস্ব গাড়িটিকে নিরাপদে রাখার জন্য আপনাকে টিকিটের চেয়েও বেশি অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে!
পার্কিংয়ের এই উদ্ভট অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামে সাধারণ দর্শকের জন্য নিজস্ব কোনো অন-সাইট পার্কিং ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। বাধ্য হয়ে সাধারণ দর্শককে তাদের গাড়ি রাখতে হচ্ছে স্টেডিয়ামের কাছাকাছি অবস্থিত ‘আমেরিকান ড্রিম মল’ নামে একটি বিশাল শপিংমলের পার্কিং লটে। আর সেখানে একটি ম্যাচের দিন গাড়ি রাখার খরচ গিয়ে ঠেকেছে দুইশ পঁচিশ ডলারে!
এখন প্রশ্ন হলো, কেন পার্কিংয়ের এই মাত্রাতিরিক্ত খরচ? ফিফা এবং স্থানীয় আয়োজকদের দাবি, স্থানীয় বাজারদর, মুদ্রাস্ফীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতির দেশে এ রকম মেগা ইভেন্ট আয়োজনের বিশাল খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।




