এক দ্বীপে দুই দেশ

একটি দ্বীপ। অথচ সেই দ্বীপের মাটিতেই রয়েছে দুটি স্বাধীন দেশ। একটি অংশের নাম হাইতি, অন্য অংশ ডোমিনিকান রিপাবলিক। দুই দেশের আলাদা সরকার, আলাদা রাজধানী, আলাদা জাতীয় পতাকা। মাঝখানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। ক্যারিবীয় সাগরের এই দ্বীপটির নাম হিস্পানিওলা।
একই দ্বীপে থেকেও দুই দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। হাইতির সরকারি ভাষা ফরাসি ও হাইতিয়ান ক্রেওল। ডোমিনিকান রিপাবলিকের সরকারি ভাষা স্প্যানিশ। হিস্পানিওলার ইতিহাসে ইউরোপীয় উপনিবেশের অধ্যায় শুরু হয় ১৪৯২ সালে। ওই বছর ক্রিস্টোফার কলম্বাস দ্বীপটিতে পৌঁছান। এরপর স্পেন দ্বীপটির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। দ্বীপটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল দীর্ঘ সময় স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
পরে দ্বীপটির পশ্চিম অংশে ফরাসি প্রভাব বাড়তে থাকে। সপ্তদশ শতকে ফ্রান্স সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করে। ১৬৯৭ সালের রিসউইক চুক্তির মাধ্যমে স্পেন দ্বীপটির পশ্চিম অংশে ফরাসি কর্তৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে। এর ফলে একই দ্বীপে স্পেন ও ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক অঞ্চল স্পষ্টভাবে আলাদা হয়ে যায়।
ফরাসি নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম অংশের নাম হয় সেন্ট ডোমিঙ্গো। সেখানে আফ্রিকা থেকে আনা বিপুলসংখ্যক দাসকে ব্যবহার করে চিনি, কফি ও অন্যান্য ফসলের বড় আকারের চাষাবাদ গড়ে ওঠে। অন্যদিকে পূর্ব অংশ স্পেনের অধীনে থেকে যায়।
১৮০৪ সালে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর সেন্ট ডোমিঙ্গো স্বাধীন হয়ে হাইতি নামে আত্মপ্রকাশ করে। এটি দাসদের বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর একটি।
পূর্ব অংশের ইতিহাস আরও ঘুরপথে এগোয়। ১৮২১ সালে স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর অঞ্চলটি আবার হাইতির নিয়ন্ত্রণে যায়। পরে ১৮৪৪ সালে ডোমিনিকান রিপাবলিক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এরপর থেকে একই দ্বীপে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব তৈরি হয়।
আজ হিস্পানিওলার দুই পাশে দুই দেশ। হাইতির রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্স; আর ডোমিনিকান রিপাবলিকের রাজধানী সান্তো দোমিঙ্গো। মাঝখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য, অভিবাসন ও মানুষের যাতায়াত নিয়ে নানা সময় টানাপড়েনও হয়েছে।



