১০০ বছর পরও ভেদ হয়নি হুডিনির মৃত্যুরহস্য

হ্যালোইনের রাত। চারদিকে ভুতুড়ে অন্ধকার, ঝরাপাতার মরমর শব্দ আর মোমবাতির অস্পষ্ট আলো। ঠিক এমন এক রাতে, ১৯২৬ সালের ৩১ অক্টোবর, মাত্র ৫২ বছর বয়সে থমকে গিয়েছিল বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে রহস্যময় মানুষটির হৃৎস্পন্দন। তিনি হ্যারি হুডিনি।
হুডিনির জন্ম ১৮৭৪ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের এক দরিদ্র পরিবারে। আসল নাম ছিল এরিক ওয়েইস। চার বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান উইসকনসিনের অ্যাপেলটনে। উনিশ শতকের বিখ্যাত ফরাসি জাদুকর জঁ-ইউজিন রবার্ট-হুডিনের নামের সঙ্গে একটি ‘i’ যোগ করে নিজের নাম বানিয়ে ফেললেন ‘হুডিনি’। শুরুটা ছোটখাটো সার্কাস বা মেলায় সাধারণ হাতসাফাই দিয়ে হলেও তার আসল জাদুকরী রূপটি প্রকাশ পায় ‘মেটামরফোসিস ট্রাঙ্ক’-এর মাধ্যমে। একটি তালাবদ্ধ ভারী
ক্রেন থেকে মাথা নিচে ঝুলিয়ে জ্যাকেট থেকে মুক্তির খেলা কিংবা জলভর্তি বিশালাকার কাচের ট্যাংকে সোজা উল্টো হয়ে ডুবে থেকে শিকল খোলার খেলা—এগুলো কেবল জাদু ছিল না; ছিল মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি লড়া।
বলা হয়, কানাডার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ব্যাকস্টেজে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। এক ছাত্র জিজ্ঞেস করে, ‘আপনার পেটে নাকি যত জোরেই ঘুসি মারা হোক, আপনি সহ্য করতে পারেন?’ হুডিনি উত্তর দেওয়ার বা নিজের পেট শক্ত করার আগেই ছেলেটি সজোরে তার পেটে পরপর কয়েকটি ঘুষি মেরে বসে। এতদিন ধরে ধারণা করা হতো, সেই ঘুসির আঘাতের কারণেই তার অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যায় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় হ্যালোইনের রাতে তার মৃত্যু
তবে শতবর্ষ পর, এই তত্ত্বকে একরকম নাকচ করে সার্জন ও চিকিৎসা গবেষক ডা. লারিয়ান গিলেস্পি দাবি করেছেন, মূল মৃত্যুর কারণ ছিল অন্ত্রের মারাত্মক ব্লকেজ এবং একটি চেপে যাওয়া জরুরি অস্ত্রোপচার, যা পরে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।
হুডিনি মারা যাওয়ার আগে তিনি স্ত্রী বেসের সঙ্গে একটি গোপন সংকেত বা ‘কোড’ নির্ধারণ করে যান। তিনি কথা দেন, মৃত্যুর ওপার থেকে যদি যোগাযোগ করার কোনো উপায় থাকে, তবে তিনি সেই কোড ব্যবহার করে বেসের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
হালেম এলাকায় হুডিনির কেনা সেই ঐতিহাসিক বাড়িটিতে আজও আছে। হুডিনির মৃত্যুর পর টানা ১০ বছর ধরে প্রতি হ্যালোইনের রাতে সেই বাড়ির একটি নির্দিষ্ট ঘরে বেস আত্মা ডাকার আয়োজন করতেন। কিন্তু হুডিনি কোনোদিন ফেরেননি। আজও প্রতি ৩১ অক্টোবর বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার ভক্ত ও জাদুকর একত্র হন হুডিনির আত্মার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যর্থ এক চেষ্টা চালাতে।



