পায়ের চিকিৎসায় পোডিয়াট্রিস্ট কেন দরকার
- ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক পোডিয়াট্রিস্ট দিবস।

পায়ের সংক্রমণ, গোড়ালির সমস্যা, ফ্ল্যাট ফুট, হাঁটার অস্বাভাবিকতা, কর্ন, ক্যালাস, ইনগ্রোন টোনেইল, নখের সংক্রমণ, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, প্লান্টার ফ্যাসাইটিস এবং খেলাধুলাজনিত আঘাতের চিকিৎসায় পোডিয়াট্রিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে গোড়ালির বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায়ও তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন পোডিয়াট্রিস্ট হলেন পা, গোড়ালি ও পায়ের নিচের অংশের রোগ, আঘাত এবং গঠনগত সমস্যার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আক্রান্ত পায়ের চিকিৎসার শুরুতেই তারা রোগীর পায়ের গঠন, হাঁটার ধরন, জুতার উপযোগিতা, পায়ের চাপের স্থান, হাড় ও জয়েন্টের নড়াচড়া, স্নায়ুর অনুভূতি এবং রক্তসঞ্চালন পরীক্ষা করেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষত পরিষ্কার ও ড্রেসিং, নখ ও ক্যালাসের চিকিৎসা, বিশেষ জুতা বা ইনসোল ব্যবহার, অর্থোটিক, ব্যায়াম এবং জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। জটিল রোগীর ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক সার্জন, ভাসকুলার সার্জন, প্লাস্টিক সার্জন, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, নার্স ও ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিক ফুটে কেন সচেতনতা দরকার
ডায়াবেটিসে দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তশর্করার কারণে পায়ের স্নায়ু দুর্বল হয়ে অনুভূতি কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রক্তসঞ্চালন কমে গেলে সামান্য কাটা, ফোসকা বা জুতার ঘর্ষণ থেকেও গভীর ক্ষত, সংক্রমণ, গ্যাংগ্রিন এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একজন ডায়াবেটিক রোগীর নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পা শনাক্ত করা, স্নায়ু ও রক্তপ্রবাহ পরীক্ষা করা, ক্ষতের ওপর চাপ কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং উপযুক্ত জুতা নির্বাচন করতে সহায়তা করা জরুরি। পাশাপাশি রোগীকে নিয়মিত পা পরীক্ষা ও পরিচর্যার বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতিদিন পা দেখা, খালি পায়ে না হাঁটা এবং কোনো ক্ষত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে পোডিয়াট্রিস্টের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশে পোডিয়াট্রি এখনো আলাদা ও ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠিত স্বতন্ত্র পেশা হিসেবে গড়ে ওঠেনি। কিন্তু প্রতিবছর লাখ লাখ ডায়াবেটিক রোগী পা হারাচ্ছেন। কেউ কেউ পায়ে গ্যাংগ্রিন থেকে সেপসিস হয়ে জীবনও হারাচ্ছেন। অথচ তাঁদের অনেকেরই পা রক্ষা করা সম্ভব।
ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে পা বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এমনকি পা হারানোর পরও সঠিক পুনর্বাসন সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে পোডিয়াট্রিস্ট, ক্ষত পরিচর্যা কেন্দ্র এবং সঠিক পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রয়োজন। হাসপাতালভিত্তিক ফুট ক্লিনিক স্থাপন, ডায়াবেটিক ফুট স্ক্রিনিং, গবেষণা, বিশেষ জুতা ও অর্থোটিকের সহজলভ্যতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
লেখক:
পোডিয়াট্রিস্ট
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটি



