যক্ষ্মা কতটা ছোঁয়াচে

যক্ষ্মা বা টিবি (TB) অন্যতম সংক্রামক একটি রোগ। এটি প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য হলেও চিকিৎসায় দেরি হলে তা অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে।
যেভাবে ছড়ায়: আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি, কথা বলা বা হাসার সময় বাতাসে জীবাণু ছড়াতে পারেন। সেই জীবাণুযুক্ত বাতাস শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে অন্য ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন। তবে সুপ্ত যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত অন্যকে সংক্রমিত করেন না।
কতটা ছোঁয়াচে: সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ভর করে রোগীর সঙ্গে কতক্ষণ কাছাকাছি থাকা হচ্ছে এবং পরিবেশে বায়ু চলাচল কেমন, তার ওপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাবিহীন সক্রিয় যক্ষ্মার রোগী এক বছরে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। এটি আনুমানিক হিসাব, নিশ্চিত সংখ্যা নয়।
লক্ষণ ও পরীক্ষা: দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, রাতের ঘাম, ক্ষুধামান্দ্য বা কফে রক্ত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কাশি হলেই যক্ষ্মা নয়। হাঁপানি, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটাসিস, সাইনাসের সমস্যা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও ফুসফুসের ক্যানসারেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে।
শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ: চিকিৎসকের পরামর্শে বুকের এক্স-রে, কফ পরীক্ষা, জিন এক্সপার্ট বা অন্যান্য মলিকিউলার পরীক্ষা করা হয়। WHO দ্রুত মলিকিউলার পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদ্ধতি হিসেবে সুপারিশ করে। বাংলাদেশেও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। যক্ষ্মা হলে ভয় নয়, দ্রুত শনাক্তকরণ ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা জরুরি।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ), আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর



