গরমে কিডনি রোগীরা কী খাবেন

গরমের মৌসুমে কিডনি রোগীদের খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে সচেতনতা শুধু আরাম নয়, চিকিৎসারই অংশ। তাপমাত্রা বাড়লে শরীর ঘামের মাধ্যমে পানি ও লবণ হারায়। এ ভারসাম্য নষ্ট হলে কিডনির ওপর চাপ বাড়ে ও রক্তচাপ অস্থির হয়। এমন পরিস্থিতিতে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ‘কী খাবেন’ ও ‘কীভাবে চলবেন’— দুটো দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কী খাবেন
• পরিমিত তরল গ্রহণ করুন
• কিডনির ফাংশন কমে গেলে বা ডায়ালাইসিস চললে চিকিৎসক নির্ধারিত তরলের পরিমাণ মেনে চলতে হবে
• ঘাম বেশি হলে সামান্য করে বারবার পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উপকারী
• খাদ্যে পরিমিত লবণের উপস্থিতির বিষয়টিও মেনে চলা জরুরি। লবণে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম ও আয়রন শরীরে পানি জমায়, রক্তচাপ বাড়ায় এবং কিডনির কাজ কঠিন করে তোলে
• খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় রাখুন। ডায়েটিশিয়ানের নির্ধারিত প্রোটিনের পরিমাণ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ
• পাতে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। কলা ও কমলার মতো ফল এবং টমেটো, পুঁই ও পালংশাকের মতো সবজিতে পটাশিয়াম বেশি থাকে। সেসব খেতে হবে বুঝেশুনে।
• দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে ফসফরাস থাকে বলে সেসব গ্রহণ করতে হবে পরিমিত।
• গরমে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার শরীরের জন্য স্বস্তিদায়ক। ভাপানো বা সিদ্ধ সবজি, অল্প তেলে রান্না, পর্যাপ্ত শাকসবজি কিডনির ওপর চাপ কম ফেলে।
• চিনিযুক্ত পানীয় ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এগুলো ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে।
কী করবেন
• প্রচণ্ড রোদ এড়িয়ে চলুন, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, বাইরে গেলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করবেন
• নিয়মিত ওজন ও রক্তচাপ মাপা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো দরকার
• চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না
লেখক: পুষ্টিবিদ, কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল




