ডেঙ্গু রোগীর খাবার কেমন হওয়া উচিত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে প্রচুর তরল এবং খনিজ উপাদান বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এ সময়ে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। ডেঙ্গু রোগীর খাবারের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হলো শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।
সকালের নাশতা: ওটস, পায়েস, স্যুপ, ডাবের পানি, কলা বা আপেল এবং লেবুপানি।
দুপুরের খাবার: নরম ভাত, ডাল, সিদ্ধ সবজি, যেকোনো মাছ এবং স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাবার।
বিকালের নাশতা: পেঁপে, কমলার রস, ওরস্যালাইন অথবা ঘরে তৈরি লবণ চিনির পানি।
রাতের খাবার: খিচুড়ি, স্যুপ, শাকসবজি ও ফল।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন: তেলেভাজা ও ঝাল খাবার, কোমল পানীয়, কফি ও কোলা। পেটে সমস্যা হলে দুধ ও ভারী দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাবেন না।
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, স্যুপ ও ফলের রস রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে বাচ্চার ওজন অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় তরল দিতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের নির্দেশে প্রতি ৬ ঘণ্টা পর প্যারাসিটামল নিন। নাক, মুখ বা মলদ্বারে রক্তপাত, লালচে দাগ কিংবা কালচে মল হলে দ্রুত হাসপাতালে যান। রক্তচাপ ও প্রস্রাবের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করুন। প্রস্রাব কমে যাওয়া বা পেট ফুলে যাওয়া বিপৎসংকেত। শক বা রক্তক্ষরণ হলে হাসপাতালে ভর্তি জরুরি। নিজে থেকে ইনজেকশন বা ওষুধ দেবেন না।
লেখক: কনসালট্যান্ট ফ্যামিলি মেডিসিন, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর



