বুকিত বিনতাং এর সন্ধ্যা

কুয়ালালামপুরের একটা বড় রুফটপ পার্কে বসে মাঝেমধ্যে সন্ধ্যাটা কাটাই। জায়গাটা হাংতুয়া-লাগোয়া। হাংতুয়া হচ্ছে আমরা যেখানে থাকি এবং রুজি-রোজগার বা ‘চারি’ করি। চারি মালয় শব্দ, এর অর্থ খোঁজ বা খোঁজা। হাংতুয়া পাইকারি তৈরি পোশাকের বাজার ও কেডব্লিউসি শপিং মল। যেখানে হাজারো বাংলাদেশি কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। শেষ বিকালে হাংতুয়া থেকে পায়ে পায়ে এগিয়ে আসি, পাশাপাশি দুটো ট্রেন স্টেশন— নিচে হাংতুয়া এলআরটি স্টেশন আর ওপরে হাংতুয়া মনোরেল স্টেশন পেরিয়ে ডানে প্রবেশ করলেই বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার। ‘বুকিত বিনতাং’ মূলত কুয়ালালামপুরের দেশি-বিদেশি পর্যটকের শহর। আর এখানে
জাপানি কোম্পানির বিনিয়োগে ১৯ দশমিক ৪ একর ভূমির ওপর নির্মিত হয়েছে ‘বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার’ (বিবিসিসি)। এর সামনে বাম পাশে হাঁটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে ‘মারদেকা ১১৮’, মানে মারদেকা টাওয়ার; যেটি পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের চেয়ে ৩০ তলা বেশি। উঁচু পাঁচতারকা হোটেল সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে বিবিসিসিতে। ভবন ঘেঁষে সড়ক, রেস্তোরাঁ, পানশালাসহ আরও কত কী! পাশেই জাপানি শপিং মল ‘মিট সুই শপিং পার্ক লালাপোর্ট’। শপিং মলের ওপরেই আমাদের সময় কাটানোর রুফটপ পার্ক। পার্কটি দেখে শপিং মলের ওপরেও মনে হয়, আবার বড় বড় ভবনের সঙ্গেও মনে হয়। নিচে স্থাপনাগুলোর ওপরেও মনে হয়। পার্কের অবকাঠামোটি ঠিক কেমন করে এমন ভ্রম তৈরি করে, তা জানা নেই। তবে এর পুরো কৃতিত্ব স্থাপত্যবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
পুরো বিবিসিসির সামনেই কুয়ালালামপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। সড়ক অবশ্যই নিচে আর সড়কের ওপরে মনোরেললাইন। বিবিসিসির বাইরে বসে বসে দেখতে পারেন সন্ধ্যার কুয়ালালামপুর কিংবা আলোকোজ্জ্বল মারদেকা টাওয়ার। নিচে সারি সারি গাড়ি, ওপরে মনোরেল, অদূরে আলোক ঝলমলে মারদেকা ১১৮ টাওয়ার। কী দারুণ দৃশ্য।




