নববর্ষের আনন্দে মুখরিত ব্যাংকক

ছবিঃ আগামীর সময়
থাইল্যান্ডের রাজপথ এখন জলধারা আর উৎসবের কোলাহলে মুখরিত। কড়া রোদের উত্তাপ ও অস্বস্তিকে পেছনে ঠেলে হাজার হাজার মানুষ মেতে উঠেছে থাই নববর্ষ ‘সংক্রাণ’-এর আনন্দে। তবে এটি কেবল উদযাপন নয়— থাই বিশ্বাসমতে, বিগত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরের শুভ সূচনা করে পবিত্র জলবর্ষণ।
‘সংক্রাণ’ উপলক্ষে ভোরের আলোয় মন্দিরে মন্দিরে চলছে বালির স্তূপে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। বয়োজ্যেষ্ঠদের হাতে সুগন্ধি পানি ঢেলে আশীর্বাদ গ্রহণের এই আচার বহু শতাব্দী ধরে অটুট। এরই ধারা বজায় রাখতে ‘ল ওয়াট ফো’, ‘ওয়াট অরুণ’ ও ‘ওয়াট বোওর্ন’ এর মতো ঐতিহাসিক মন্দিরগুলো ঘিরে ভক্ত ও পর্যটকদের প্রচুর ভিড়।
থাইল্যান্ড পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে এসেছেন ১ কোটি ৭৩ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং পর্যটন আয় ছাড়িয়ে গেছে ৫১৬ বিলিয়ন থাই বাতে (২০৬৪ বিলিয়ন টাকা)। ‘সংক্রাণ’ উৎসবে কেবল বিদেশি পর্যটক আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ৪০ লাখ ৭৬ হাজার, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে তিন শতাংশ বেশি। শীর্ষ পর্যটক প্রেরণকারী দেশের তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, রাশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া।
ব্যাংককজুড়ে ১২টি নির্ধারিত জল উৎসব কেন্দ্রে নেমেছে মানুষের ঢল। সানাম লুয়াং ও রাচাদামনোয়েন (সিয়াম এরিয়া) এভিনিউতে তিন দিনে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি দর্শনার্থী। খাও সান রোডে চার দিনে এসেছেন প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার পর্যটক। সিলম রোডে তিন দিনে ভিড় জমেছে ২০ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি পর্যটকের, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সিয়াম স্কোয়ার ও আইকনসিয়াম এলাকায়ও ভীড় করেছে লক্ষাধিক উৎসবপ্রেমী।
এখন সংক্রাণ মানেই রাস্তায় নেমে পানি ছিটানো—যেন পুরো দেশ জুড়ে চলছে বিশাল এক ওয়াটার ফাইট! সব বয়সের মানুষ বের হচ্ছে ওয়াটার গান নিয়ে। কেউই পানি থেকে নিরাপদ নয়।
এই বিশাল জনসমাগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থাই কর্তৃপক্ষ মোতায়েন করেছে ড্রোন নজরদারি ও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক। সিলম রোডে অভূতপূর্ব ভিড়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাসিন্দাদের বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংকক গভর্নর। উৎসব মৌসুমে সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধেও জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। সানাম লুয়াংয়ে ১২০০ ড্রোনের আলোক প্রদর্শনী এবং থাইল্যান্ডের পাঁচ অঞ্চলের বিরল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল এবারের উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ।
দেশবাসীকে থাই সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করে বিদেশি অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। সংগীত, নৃত্য, পবিত্র পানিধারা আর শুভেচ্ছার এই মিলনমেলায় ব্যাংকক এখন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় উৎসব নগরী।



