ঢাকা গেট

ঢাকা গেটের বর্তমান অবস্থা। ছবি: মহুবার রহমান
ঢাকা গেট, যা ‘মীর জুমলা গেট’ নামেও পরিচিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কার্জন হল ও দোয়েল চত্বরের পাশে অবস্থিত একটি মোগল আমলের ঐতিহাসিক ফটক। সরকারি গেজেটে এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘মীর জুমলার গেট’ হিসেবে, তবে জনপ্রিয়ভাবে এটি ‘ঢাকা গেট’, ‘রমনা গেট’ এবং ‘ময়মনসিংহ গেট’— এই তিন নামেও পরিচিতি পেয়েছে।
মোগল শাসনামলে এটি ঢাকা শহরে প্রবেশের প্রধান পথ এবং একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ফটক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদের মতানুসারে, গেটটি সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলার তৎকালীন সুবেদার মীর জুমলা দ্বিতীয়ের নির্দেশে নির্মিত হয়েছিল। কোনো কোনো সূত্র অনুযায়ী, মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে স্থলপথে শত্রুর আক্রমণ থেকে ঢাকাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এ ফটকটি নির্মাণ করিয়েছিলেন।
১৮২৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে ঢাকার তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস ডাওয়ে গেটটি সংস্কার করেন এবং এরপর থেকেই ‘ঢাকা গেট’ নামটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এটি সংস্কার করে এবং ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঢাকা গেট’ নামে এর উদ্বোধন করা হয়। সংস্কারকাজ শেষে স্থাপনাটির নান্দনিকতা বৃদ্ধির জন্য মীর জুমলার একটি ঐতিহাসিক কামানও সেখানে স্থাপন করা হয়েছে, যা ‘বিবি মরিয়ম’ নামে পরিচিত।
বর্তমানে গেটটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। হলুদ রঙের ইট দিয়ে নির্মিত এ তোরণটি কার্জন হল ছাড়িয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির দিকে যাওয়ার পথে সহজেই চোখে পড়ে। ঢাকা গেট শুধু একটি স্থাপত্যিক নিদর্শন নয়; এটি শহরের সীমানা, নিরাপত্তা এবং পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও কাজ করেছে। বর্তমানে এটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও পর্যটকদের কাছে একটি উন্মুক্ত জাদুঘরের মতো কাজ করছে।






