চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা
কীভাবে ভারসাম্য রাখবেন

মডেল: নায়না আক্তার; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেক পেশাজীবীই বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পড়ছেন বা পড়ার পরিকল্পনা করছেন, এমন পরিস্থিতি সামলানোর উপায় জানাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও উন্নয়নকর্মী সংযুক্তা দাস
কৌশলী উপায়: বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট অর্জনযোগ্য ধাপে ভাগ করে নিন, যেগুলো আপনার কাজ এবং পড়ার রুটিনের সঙ্গে সহজেই সমন্বিত করা যায়। এক লাফে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে গিয়ে নিজেকে মানসিক চাপে ফেলা যাবে না। মনে রাখবেন, বাস্তব জীবনে সাফল্য প্রায়ই আসে দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মিশে থাকা ছোট ছোট সুচারু পদক্ষেপের ধারা থেকে। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতের জন্য একজন মানুষের কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর বাইরে অফিসে গড়ে আট ঘণ্টার পাশাপাশি যাতায়াত, খাওয়া-গোসল ইত্যাদি মিলিয়ে আরও চার ঘণ্টা সময় লাগে। সব মিলিয়ে দাঁড়ায় ২০ ঘণ্টা। হাতে রইল চার ঘণ্টা। সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলো সাধারণত তিন ঘণ্টার হয়ে থাকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় সপ্তাহে দুই বা তিন দিন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কোনো কোর্সে ভর্তি হলে বিষয়টি আপনার জন্য সহজ হবে। চাকরির পাশাপাশি যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান, তাদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে এক বছরে দুই সেমিস্টার মেয়াদি এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কোর্স চালু আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগেও প্রফেশনাল মাস্টার্স চালু আছে, যেখানে ছুটির দিনে আপনি ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরে দুই সেমিস্টার মেয়াদি ১২টি স্কিল-বেসড পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) কোর্স চালু আছে।
এ সময় মনোবল ধরে রাখা, ধৈর্যের সঙ্গে চাকরি, পড়াশোনা এবং পরিবারের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি
পড়াশোনা ও জীবনযাপনের সমন্বয়: সময়ের সঠিক সমন্বয়ের জন্য একটি লিখিত রুটিন তৈরি করুন এবং নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ুন। অফিস ক্যালেন্ডারের মতো টুল সময় ব্যবস্থাপনা এবং অ্যাকাডেমিক ও পেশাগত কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে সাহায্য করবে। ক্লাস লেকচারগুলোর রেকর্ডিং রেখে যাতায়াতের সময়টুকুতে হেডফোনের মাধ্যমে শুনতে পারেন। অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার আগে সম্ভব হলে এক-দুদিন ছুটি নিয়ে নেওয়া ভালো।
সমমনাদের সঙ্গে সংযোগ: পড়ার সময়ের মধ্য থেকে কিছুটা অংশ সমমনা সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য রাখলে নিজেকে কম বিচ্ছিন্ন বলে মনে হবে। আপনার ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হয়তো কেউ কেউ পূর্ণকালীন চাকরি করছেন। তাদের সঙ্গে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গড়ে তুললে একে অপরকে সহায়তা এবং সাফল্যের কার্যকর টিপস ভাগাভাগি করা সহজ হবে। এ ছাড়া সহপাঠীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে। পড়াশোনা করতে গিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও এই গ্রুপে শেয়ার করতে পারবেন। এ সময় মনোবল ধরে রাখা, ধৈর্যের সঙ্গে চাকরি, পড়াশোনা এবং পরিবারের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।



