এইচআর অ্যাডভাইজ
ফ্রেশারদের যে ভুলগুলো ক্যারিয়ার থামিয়ে দেয়
- ক্যারিয়ারের শুরুতে নমনীয়তা আপনার জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে

অনেকেই প্রথম চাকরি পেতে হিমশিম খান। এর পেছনের কারণ কী? উত্তর দিয়েছেন নেক্সটব্রিজ কনসাল্টিং ও হিউম্যানএক্সের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা তামজিদুল আলম
ইন্টারভিউর আগে
মূল সমস্যা ইন্টারভিউ রুমে নয়; বরং এর অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। ভিত্তি দুর্বল হলে সামনে এগোনো কঠিন।
সিজিপিএ ভালো, কিন্তু দক্ষতা শূন্য: আজকাল বেশিরভাগ বড় প্রতিষ্ঠান সিভি বাছাইয়ের জন্য অ্যাপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম (এটিএস) সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এখানে ভালো সিজিপিএ আপনাকে ডাক পেতে সাহায্য করে ঠিকই; কিন্তু ইন্টারভিউয়ের দরজা পার হওয়াই শেষ কথা নয়। বাস্তব জ্ঞান বা দক্ষতা না থাকলে আটকে যেতে হয় সেখানেই। পড়াশোনার পাশাপাশি কোনো ট্রেনিং, ইন্টার্নশিপ বা প্রাসঙ্গিক কোর্স না করার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও পিছিয়ে পড়েন।
দুর্বল সিভির দায়: সিভি আপনার প্রথম পরিচয়। অথচ অনেক সময় সিভিতে সাধারণ বানান ভুল, অগোছালো ফরম্যাট এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্যে ভরা থাকে। একটি আদর্শ সিভি হওয়া চাই সংক্ষিপ্ত, পরিচ্ছন্ন এবং নিয়োগকর্তার নজর কাড়ার মতো।
প্রস্তুতিহীনতার বিপদ: অনেকে কম্পিটেন্সি-বেসড ইন্টারভিউ (সিবিআই) সম্পর্কে কোনো ধারণা না রেখে ইন্টারভিউ দিতে যান। এ ধরনের ইন্টারভিউতে আপনাকে শুধু ‘কী’ করেছেন তা নয়; বরং ‘কীভাবে’ করেছেন, এর বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে হয়। সঠিক প্রস্তুতি না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে তারা দক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হন।
লক্ষ্যহীনতার দুর্ভোগ: আপনি ভবিষ্যতে কী করতে চান, কোন পথে এগোতে চান? এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা একটি বড় দুর্বলতা। যখন একজন প্রার্থী নিজেই জানেন না তিনি কী চান, তখন নিয়োগকর্তার কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে যায়।
ইন্টারভিউ রুমে
ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছানোর পর কিছু ছোট ছোট ভুল আপনার সুযোগ নষ্ট করে দিতে পারে।
সময়ের প্রতি অবহেলা: ইন্টারভিউতে দেরি করে পৌঁছানো অপেশাদারত্বের চূড়ান্ত লক্ষণ। সবসময় নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৫ মিনিট আগে পৌঁছানো ভালো। একইভাবে, প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’-‘না’ কিংবা সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়াও অনুচিত। প্রতিটি উত্তর উদাহরণসহ গুছিয়ে বলার চেষ্টা করুন।
অতিরিক্ত স্মার্টনেস: আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো; কিন্তু এর বাড়াবাড়ি অনেক সময় অহংকার হিসেবে মনে হতে পারে। বিনয়ী থাকা এবং সৎ কথা বলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
শুরুতেই বেতন নিয়ে দরকষাকষি: ফ্রেশার হিসেবে আপনার প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত শেখা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা। কিন্তু অনেকে প্রথম চাকরিতেই বেতন নিয়ে অতিরিক্ত কঠোর থাকেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে নমনীয়তা আপনার জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।
প্রশ্ন করতে ভুলে যাওয়া: ইন্টারভিউয়ের শেষদিকে আপনাকে যখন প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়, তখন চুপ করে থাকবেন না। প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন, আপনার ভূমিকা; কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করুন। এটি প্রমাণ করবে, আপনি কাজটি নিয়ে সত্যিই আগ্রহী।






