জবি চলচ্চিত্র উৎসবে তারুণ্যের ছবি

তানহা তাবাসসুমের ‘হোয়াট ইফ’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য
ক্লাসে আসা-যাওয়ার পথে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়েন অণু। তরুণী এই মেয়েটি রাস্তায় অস্বস্তিকর দৃষ্টির শিকার হন, বাসের ভিড়ে অস্বস্তিকর স্পর্শের মুখোমুখি হন। একসময় কল্পনায় নিজেকে প্রতিবাদীরূপে আবিষ্কার করেন এবং হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি। এভাবে সামাজিক সচেতনতার বার্তা তুলে ধরেছে তানহা তাবাসসুমের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হোয়াট ইফ’। পরিচালক জানিয়েছেন, ছবিটিতে নারীর নীরব ট্রমা, ভয় ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অন্তর্নিহিত শক্তি তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমা দেখানো হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘৩৫ মিলিমিটার-২০২৬’ উৎসবে। তাতে অংশ নিয়েছিলেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের মোট ২০ জন চলচ্চিত্রকার। সিনেমা ছিল মোট ১৮টি। আয়োজন করেছিল ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি’। তাদের ম্লোগান ছিল ‘আমাদের পর্দায়, আমাদের ছবি’। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি তরুণ নির্মাতাদের সৃজনশীলতার বিকাশ, কাজের মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া।
উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো হলো— সৌদ হাসান রাজিবের ‘ডিসট্রাকশন’, কাব্য কবিরের ‘কিছুক্ষণ পর’, অনামিকা গাইনের ‘গামছা’, বিশ্বপ্রিয় ভট্টাচার্য কাব্যের ‘দ্য সাইলেন্ট উইটনেস’, আদনান সৈকতের ‘দ্য আইস’, সাকিব হোসাইনের ‘ত্রয়োদশবিন্দু’, সায়াত মোহাম্মেদ শাহরিয়ারের ‘ইফেমেরাল’, ফাইরুজ ইতুর ‘ইয়োর গিল্টি উইল কনজিউম ইউ’, মাহজাবিন চৌধুরী অর্নার ‘কাট’, সাদিয়া তাবাসসুম ঐশীর ‘অপর্ণা’, শিহাব সাহারা নিয়ালের ‘নিলাম’; আনিকা রায়হানা মোহনা, রিয়াতি আক্তার ও রাফিয়া জহিরের ‘নোটিফিকেশন’; জয়িতা চক্রবর্তীর ‘এক গ্লাস আইডিওলজি’, মুশতাবি নাওয়ারের ‘হুইশেল’, তানহা তাবাসসুমের ‘হোয়াট ইফ’, নিয়াজ মোর্শেদ সম্পদের ‘হোম-মেড’, মাইন উদ্দিন আহমেদের ‘আ রেসপনসিবল সিস্টার’ ও আরিফ হাসান হৃদয়ের ‘কবিতা’।
চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ‘কাট’-এর পরিচালক মাহজাবিন চৌধুরী অর্না বললেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ আমার ভালো লাগার কাজ। যেহেতু ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে পড়ি, তাই চলচ্চিত্রটি নির্মাণে আরও আগ্রহী হয়েছি।’
উৎসবের কো-অর্ডিনেটর মাঈন উদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘এই চলচ্চিত্র উৎসব আমাদের ফিল্ম সোসাইটির নিয়মিত কার্যক্রম, যেখানে জবিয়ানদের সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করা হয়। কাজের গুণগত মান যাচাই ও পরবর্তী কাজের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। দর্শক প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর নান্দনিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা থাকে। বাকিটা সংগঠনের ফান্ড ও সাবেক সদস্যদের (অ্যালামনাই) সহযোগিতায় সংগ্রহ করা হয়।’ এই উৎসবের সভাপতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটির মেন্টর এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. নিস্তার জাহান কবীর বললেন, ‘ছেলেমেয়েদের এত সুন্দর কাজ দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। আমাদের নানা সংকট থাকলেও তাদের সদিচ্ছা ও ডেডিকেশনের কোনো কমতি ছিল না। বাংলাদেশে সমস্যা হলো, ছেলেমেয়েরা একটা সময় পর লাইন থেকে হারিয়ে যায়। এমনটা না হলে ভবিষ্যতে তারা অনেক ভালো করবে। আমরা শিক্ষকরা সবসময় তাদের পাশে আছি। আশা করছি, আগামীতে এর চেয়ে বিস্তৃত ও ব্যাপক পরিসরে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারব। ডিসেম্বরে আমাদের আরও একটি ফেস্টিভাল হবে। সেখানে হলিউড থেকে একজন ব্যক্তিত্ব আসবেন।’



