এক দিনের ক্লাস

লুমিনারিতে চলছে ক্লাস । ছবি: লেখক
তাদের ক্লাস হয় প্রশান্তি পার্কে। এটি আছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের শিক্ষকরাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নানা বর্ষের ছাত্রছাত্রী। প্রতি শুক্রবার বেলা ৩টায় শুরু হয় ক্লাস। বিকাল জুড়ে আনন্দঘন পরিবেশে তাদের লেখাপড়া শেখানো হয়। আরও শেখানো হয় নৈতিকতা। সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য ছবি আঁকার ক্লাসও হয়। সঙ্গে থাকে গান, গল্প আর ছন্দে ছন্দে কবিতা আবৃত্তি। এসব শিশুর বই-খাতা কিনে দেন তাদের শিক্ষকরাই।
এই ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। তারা লুমিনারির মাধ্যমে লিখতে ও পড়তে শিখছে। লুমিনারি শব্দের মানে হলো জ্ঞানের আলো। সংগঠনটির সভাপতি মেহেদী হাসান বললেন, ‘পড়ালেখার বাইরে থাকা এসব শিশুকে পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমরা চেষ্টা করে চলেছি।’ কীভাবে এই সংগঠনের জন্ম— এ বিষয়ে তিনি বললেন, ‘২০১৫ সালে আমাদের যাত্রা শুরু। এক দশকের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’
‘২০১৫ সালে আমাদের যাত্রা শুরু। এক দশকের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছি’
লুমিনারির সদস্যরা জানালেন, লেখাপড়ায় ভালো করা ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। শীতকালে তাদের মধ্যে শীতের বস্ত্র বিতরণ করা হয়। স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতে নিয়মিত নখ কাটা, প্রতিদিন ভালোভাবে গোসল করা ইত্যাদি কাজের তাগিদ দেওয়া হয়।
প্রতি শুক্রবার বিকালে প্রশান্তি পার্কে গেলে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল বিছিয়ে তাদের পড়ালেখা করানো হচ্ছে। পড়ালেখা শেষে অনুপ্রেরণামূলক গান গাইছে শিশুরা। হািস, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে পরিবেশ। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শত্রু আবহাওয়া। অতিরিক্ত গরমে আক্রান্ত হয় শিশু ছাত্রছাত্রীরা। তাদের তখন ভালো লাগে না। আবার বৃষ্টি হলে বিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হয়। তবে কখনো কখনো অডিটরিয়ামের বারান্দা ব্যবহার করেন আয়োজকেরা। কোনো কোনো অনুষ্ঠান বিএনসিসির রুমে করা হয়। বিদ্যালয়ে পড়তে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। ১৩ বছরের ছাত্র রাহিম বলল, ‘আমরা গরিব মানুষ, খাইতে-পইরতে কষ্ট হয়। তারপরও এই পাঠশালায় পড়া শুরু করেছি। এখানে আইয়া পড়তে অনেক ভালো লাগে। যদি ক্লাস সপ্তাহে কয়েক দিন বেশি অইতো, তাহলে আমাগো জন্য আরও উপকার অইতো।’



