ডায়েট
আহারে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধ

মডেল: ফাইজা, ছবি: অপূর্বা
গ্রীষ্মের দিনে সুষম খাদ্য গ্রহণের উপায় জানালেন চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন
ফলের রস
সারা দিনে ৫০০ মিলিলিটার ফলের রস পান করতে পারেন। তা হতে পারে তরমুজ, আনারস, পেঁপে, বেল, তেঁতুল বা মাল্টার রস। এই ফলের জুসগুলোর প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পানি। সেই সঙ্গে ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর। পেশির কর্মক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে কাজ করে এগুলো।
টক দইয়ের লাচ্ছি
পর্যাপ্ত পানি, ভিটামিন ও মিনারেলের উৎস টক দই। এর লাচ্ছি হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। টক দইয়ের প্রোবায়োটিক গুণাবলি শরীরে অধিক তাপমাত্রা উৎপন্ন হওয়াকে প্রশমিত করে। এ ছাড়া এর ফাইবার শরীরের পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তা ধরে রাখতেও সহায়ক।
বিশুদ্ধ পানি
পানির অন্যতম প্রধান কাজ মানবদেহে তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই এ সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি পানি পান করাই শ্রেয়। তবে ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করা ঠিক নয়। বরং ৫০ শতাংশ স্বাভাবিক পানির সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া ভালো।
ভেজিটেবল স্যুপ
শরীরের তাপমাত্রা ও খনিজের ভারসাম্য রক্ষায় চিকেন ভেজিটেবল স্যুপ হতে পারে চমৎকার অপশন। তবে গরমের সময় স্যুপ দিনের শেষ ভাগে খাওয়াই উত্তম। এমন ক্ষণে এক বাটি স্যুপ ব্যক্তিমানুষের সারা দিনের ক্লান্ত পেশিগুলো সতেজ করে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
পাতলা ঝোলের তরকারি
ভাজি-ভুনা খাবারের বদলে কম মসলাযুক্ত পাতলা ঝোলের তরকারি খাওয়া শ্রেয়। এতে শরীরে তাপ উৎপন্ন কম হবে। অধিক মসলাযুক্ত খাবার হজম করতে বেশি সময় এবং অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন। ফলে অধিক তাপ উৎপন্ন হয়। তাই লাউ, চালকুমড়ো, ঝিঙে, পটোল, চিচিঙ্গার মতো সবজি ব্যবহারে রান্না করা পাতলা ঝোল ভালো অপশন।
খাবার স্যালাইন
ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে স্নায়ুকে কর্মক্ষম রাখতে প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার খাবার স্যালাইন পান করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি কচি ডাবের পানিও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
খেয়াল রাখবেন
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঘরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করার প্রয়াস চালানো উত্তম। কৃষকের সাবধানতা অবলম্বনে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা এবং বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে পারেন। এতে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।




