ফ্যাশন
ঠোঁটের যত্নে

মডেল: সাবরিন ইসলাম, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, পোশাক: লা রিভ, ছবি: অপূর্বা
ঋতু বদল, রোদ, ধুলাবালি, বৃষ্টির স্যাঁতসেঁতে আবহ কিংবা ব্যস্ত জীবন— সবকিছুর প্রভাব পড়ে ঠোঁটে। তাই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া সুস্থ ত্বক, আত্মবিশ্বাসী হাসি এবং পরিপাটি ব্যক্তিত্বেরও অংশ। লিখেছেন ফারিয়া আলম
মুখের যত্নে যতটা, ঠোঁটের ক্ষেত্রে অনেকেই ততটা সচেতন নন। অথচ ঠোঁট মুখের সবচেয়ে কোমল অংশগুলোর একটি। শরীরের অন্য অংশের ত্বকের তুলনায় এর গঠন অনেক পাতলা। আর এখানে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া, তীব্র রোদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে দীর্ঘ সময় থাকা, পর্যাপ্ত পানি না পান করা, বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হওয়া কিংবা বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর মতো ছোট ছোট অভ্যাসও খুব দ্রুত ঠোঁটকে শুষ্ক করে ফেলে।
বদাভ্যাসে মানা: অনেকেরই অভ্যাস, ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নেওয়া। রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা জানালেন, এতে মুহূর্তের জন্য আরাম মিললেও লালা শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে যায়। একইভাবে দাঁত দিয়ে ঠোটের মৃতকোষ তোলা বা আঙুল দিয়ে খুঁটে ফেলা থেকেও বিরত থাকতে হবে। নয়তো ছোট ক্ষত, সংক্রমণ, এমনকি স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে।
পণ্য বাছাই: ঠোঁটের যত্নের সবচেয়ে পরিচিত প্রসাধনী হলো লিপবাম। তবে সব লিপবাম এক রকম নয়। শিয়া বাটার, বিসওয়াক্স, সেরামাইড, পেট্রোলিয়াম জেলি বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ লিপবাম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বেশি কার্যকর। দিনের বেলায় বাইরে বের হলে এসপিএফযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করা ভালো; কারণ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিও ঠোঁট কালচে ও শুষ্ক করে তুলতে পারে।
চলতি নো-মেকআপ লুক থেকে শুরু করে গ্লসি লিপ, সফট ম্যাট কিংবা ন্যুড মেকআপ— সব ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ঠোঁটই সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড
ঘুমানোর আগে: রাতে মুখের ত্বকের মতো ঠোঁটের পরিচর্যা প্রয়োজন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁট পরিষ্কার করে পুরু করে লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ দিলে সারা রাত আর্দ্রতা বজায় থাকে। সপ্তাহে এক দিন মৃদুভাবে ঠোঁট এক্সফোলিয়েট করা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা উচিত নয়। কেননা কোমল ত্বকে বাড়তি চাপ ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পুষ্টি সন্ধান: সুন্দর ঠোঁট জন্য শুধু প্রসাধনী যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভেতর থেকেও যত্ন। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। আবার ভিটামিন বি, আয়রন, ওমেগা-৩ সহ স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতিও ঠোঁটের স্বাভাবিক রঙ ও কোমলতা নষ্ট করতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার রাখা জরুরি।
সুন্দর ঠেঁট শুধু সৌন্দর্যের নয়, ব্যক্তিত্বেরও অংশ। তাই ঠোঁটের যত্নকে স্কিনকেয়ারের পাশাপাশি বিউটি রুটিনের অপরিহার্য ধাপ হিসেবে দেখা হয়। নিখুঁত লিপস্টিক, টিন্ট বা গ্লসের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তখনই, যখন ঠোঁট থাকে মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। চলতি নো-মেকআপ লুক থেকে শুরু করে গ্লসি লিপ, সফট ম্যাট কিংবা ন্যুড মেকআপ— সব ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ঠোঁটই সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড।
লিপস্টিকে সচেতনতা: লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী ম্যাট লিপস্টিক অনেক সময় ঠোট শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই লিপস্টিক ব্যবহারের আগে পাতলা করে লিপবামের প্রলেপ দেওয়া ভালো। দিনের শেষে অবশ্যই লিপস্টিক বা টিন্ট সম্পূর্ণ তুলে ফেলতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকাও জরুরি।
ঠোঁটের যত্ন শুধু নারীদের জন্য— এমন ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। নানা কারণে পুরুষদের ঠোঁটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই তাদেরও নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সূর্যের সুরক্ষা প্রয়োজন। একইভাবে শিশু ও প্রবীণদের ঠোঁটও দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। শিশুদের ঠোঁট বারবার চাটার অভ্যাস এবং বয়সের কারণে প্রবীণদের ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এই দুই বয়সে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।
তবে প্রসাধনীর মাধ্যমে ঠোঁটের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে ঠোঁট ফেটে থাকা, বারবার রক্ত পড়া, মুখের কোনায় ঘা হওয়া, অস্বাভাবিক রঙ পরিবর্তন কিংবা ক্ষত সহজে না শুকানোর মতো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এগুলো কখনো কখনো পুষ্টির ঘাটতি, অ্যালার্জি, সংক্রমণ বা অন্য শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।




