ডায়েট
রেড মিট রেড অ্যালার্ট

এ সময়ে রেড মিট এড়ানো অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। সঠিক উপায়ে গ্রহণ করা স্বাস্থ্যকর। পরামর্শ দিচ্ছেন চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন
অতিরিক্ত লাল মাংস, বিশেষ করে চর্বিযুক্ত অংশ হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ওপর চাপ এবং দীর্ঘ মেয়াদে মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই রেড মিট খাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ জরুরি। কিন্তু বিশেষ শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় একেবারেই বিধিনিষেধ না থাকলে এমন মাংস পুরোপুরি এড়ানোও কাজের কথা নয়। কেননা, রেড মিটে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন বি-১২, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে সমস্যা হয় তখনই, যখন খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ সীমা ছাড়িয়ে যায়। এমন মাংসে থাকা অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়াম শরীরে কোলেস্টেরল বাড়াতে এবং হজমে চাপ ফেলতে পারে। তাই একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সপ্তাহে দু-তিনবারের বেশি লাল মাংস না খাওয়া এবং প্রতিবারের পরিমাণ সীমিত রাখা ভালো।
পরিমাণ নির্ধারণ
একজন মানুষের প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের বিপরীতে ১.২ থেকে ১.৫ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে প্রোটিন থাকে গড়ে ২২ গ্রাম। সুস্থ-স্বাভাবিক ৭০ কেজি ওজনের পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি সারা দিনে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম মাংস খেতে পারেন। তবে অন্য কোনো প্রোটিনের উৎস থাকলে মাংসের পরিমাণ কমানো চাই। কেননা, বেশি মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, পাইলস, ফিসার, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। আর যাদের বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের আরও কম পরিমাণে খাওয়া মঙ্গল। প্রয়োজনে নেওয়া চাই পুষ্টিবিদের পরামর্শ।
স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার
কেউ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় রেড মিট খেয়ে ফেলেন, তাহলে কিছু শৃঙ্খলা মেনে সেই চাপ অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
- একসঙ্গে বেশি না খেয়ে, পরিমাণে অল্প খান;
- এক বেলায় একাধিক ভারী মাংসের পদ এড়িয়ে চলুন;
- চর্বিযুক্ত অংশ যতটা সম্ভব এড়িয়ে লিন মাংস খাওয়ার চেষ্টা করুন;
- পাতে সবজির পরিমাণ বাড়ান। মাংসের সঙ্গে সালাদ, শাকসবজি বা সিদ্ধ সবজি রাখলে ফাইবার বাড়ে, হজম সহজ হয়;
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি হজমে সাহায্য করে এবং কিডনির ওপর চাপ কমায়;
- হালকা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন;
- খাদ্য গ্রহণের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটাচলা করা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হজমে সহায়ক।
রান্না ও সংরক্ষণ
কতটা মাংস খাচ্ছেন, শুধু সেটিই ভাবনার বিষয় নয়; রান্নার ধরন, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কীভাবে রান্না করছেন, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত উচ্চ তাপে পোড়া বা বেশি ভাজা মাংসে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আবার ঈদের সময় অনেকেই একসঙ্গে অনেক মাংস রান্নার পর কয়েক দিন ধরে বারবার গরম করে খেয়ে থাকেন। এতে হজম ও পেটের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই ভালো অভ্যাস হলো, কম তাপে ধীরে ধীরে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প করে রান্না করা এবং বারবার গরম করা থেকে বিরত থাকা।






