ভারতের ফিল্ম শুটিংয়ের দৃশ্যকে ‘মসজিদে সশস্ত্র হামলা’ দাবি করে প্রচার

ছবি: আগামীর সময়
ভারতে মসজিদে নামাজরত মুসলিমদের ওপর আরএসএসের (RSS) সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একটি ভবনের দিকে উগ্রভাবে ছুটে যেতে দেখা যায়, যা দেখে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি কোনো বাস্তব হামলার ঘটনার নয়; বরং এটি ভারতের পাটনা হাই স্কুলে একটি ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ের দৃশ্য, যা পরবর্তীতে পাটনা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
আসল ভিডিওর উৎস অনুসন্ধান
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করা হলে ‘Jitendra Mohan Pintu Raj’ নামক একটি ফেসবুক প্রোফাইলে গত ২৫ জুন প্রকাশিত মূল ভিডিওটির সন্ধান পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল—আজ পাটনার গারদানিবাগের পাটনা হাই স্কুলে একটি ফিল্মের শুটিং চলছিল।
পাটনা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও আইনি সতর্কতা
পরবর্তীতে, এই ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে গত ২৬ জুন উক্ত ফিল্মের শুটিং নিয়ে পাটনা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি অফিশিয়াল বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়। পাটনা পুলিশ তাদের ভেরিফাইড এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে জানায়, দৃশ্যগুলো পাটনার গারদানিবাগের পাটনা হাই স্কুলে চলমান একটি ফিল্মের শুটিংয়ের, যার জন্য আয়োজকেরা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়েছিলেন।
পুলিশ তাদের বিবৃতিতে আরও জানায়, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শুটিংয়ের ভিডিওকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও সাম্প্রদায়িক দাবির সঙ্গে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা সাধারণ জনগণকে এই ধরনের যাচাই না করা তথ্যে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেয়।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও পুলিশের অফিশিয়াল রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভারতে মসজিদে নামাজরত মুসলিমদের ওপর আরএসএসের সশস্ত্র হামলার দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। পাটনা হাই স্কুলে যথাযথ অনুমতি নিয়ে ধারণ করা একটি ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ের দৃশ্যকে বাস্তব সংঘাতের রূপ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।






