ময়মনসিংহে বিরল শিশুর জন্ম নেওয়ার খবরটি কি সত্যি

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে—ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার লাকিমনি বেগমের তিন মাস বয়সী সন্তান আরহামের শারীরিক গঠন দেখতে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মতো। পোস্টটিতে আরও বলা হয়, শিশুটির খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক এবং এর আগেও বাংলাদেশে এমন বৈশিষ্ট্যের শিশু দেখা গেছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া। ছবির ব্যক্তিটি বাস্তব কোনো শিশু নয় এবং তারাকান্দায় এমন কোনো ঘটনার অস্তিত্বও নেই। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ কাল্পনিকভাবে ছবিটি তৈরি করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এআই শনাক্তকরণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে মূলধারার কোনো গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ সংক্রান্ত খবরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে ওপেন এআই টুলসের মাধ্যমে ছবিটিকে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জেনারেট করা হয়েছে। ছবিটিতে ওপেন এআই-এর বিশেষ ‘সিন্থআইডি’ (SynthID) ওয়াটারমার্কের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।
এছাড়া ‘Hive Detect’ এবং ‘Deepfake Detector’-এর মতো এআই শনাক্তকরণ টুলসের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হলে সেখানেও ছবিটি শতভাগ এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার ডিজিটাল প্রমাণ মেলে।
প্রোজেরিয়া রোগ ও মাগুরার পুরোনো প্রসঙ্গ
অনুসন্ধানে দেখা যায়, পোস্টের বিবরণটি মূলত ‘প্রোজেরিয়া’ (Progeria) নামক এক বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের শরীর স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ দ্রুত বৃদ্ধদের মতো হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মাগুরার চার বছর বয়সী শিশু বায়েজিদ হোসেন প্রোজেরিয়া ও কিউটিস ল্যাক্সা নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারটি বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চেষ্টা করেও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে পারেনি। তবে তারাকান্দার ঘটনার সাথে সেই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
সার্বিক তথ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘ময়মনসিংহের তারাকান্দায় তিন মাসের শিশু দেখতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের মতো’ সংক্রান্ত দাবিটি পুরোপুরি মনগড়া। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি কৃত্রিম ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।






