চেয়ার উঁচিয়ে নারীদের আঘাতের ভিডিওটি গ্রামীণ ব্যাংকের নয়

ছবি: আগামীর সময়
ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা ‘গ্রামীণ ব্যাংক’-এর একটি শাখায় পাওনা টাকা তুলতে গিয়ে নারী গ্রাহকরা শাখা ম্যানেজারের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন— এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সহকারে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি চেয়ার উঁচিয়ে কয়েকজন নারীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন এবং আঘাত করছেন। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই। এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো ঘটনা নয়, বরং ভারতের একটি বিদ্যুৎ অফিসের পুরনো সংঘর্ষের দৃশ্য।
প্রেক্ষাপট ও ভাইরাল দাবি
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে উল্টো নারী গ্রাহকদের ওপর চড়াও হয়েছেন এবং চেয়ার দিয়ে পিটিয়েছেন। আর্থিক খাতের চলমান পরিস্থিতির কারণে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বিভ্রান্তি ছড়ায়।
অনুসন্ধান ও আসল ঘটনা
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা ও উৎস যাচাইয়ে ডিজিটাল ফরেনসিক টুলস ও রিভার্স ইমেজ সার্চের সহায়তা নেওয়া হয়। অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয় যে, ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের নয়। এমনকি দেশের কোনো মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রেও গ্রামীণ ব্যাংকে এমন কোনো ঘটনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
প্রকৃতপক্ষে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির উৎস প্রতিবেশী দেশ ভারত। এটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের টিকামগড় জেলার লিধৌরা এলাকার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া ঘটনার দৃশ্য।
প্রামাণ্য উৎস ও প্রেক্ষাপট
ভারতীয় সংবাদভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘পাবলিক’ -এ প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মধ্যপ্রদেশের টিকামগড় জেলার লিধৌরায় ঘটে এ ঘটনা। মূলত রতনগুয়ান গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে পড়ে ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে স্থানীয় গ্রামবাসী বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ ও আবেদন জমা দিতে যান। সেখানে আবেদন জমা নেওয়া এবং বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ভিডিওর ওই ব্যক্তিটি মূলত বিদ্যুৎ অফিসের কর্মী ছিলেন।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’ এবং ‘নিউজ১৮’ -এর প্রতিবেদনেও একই ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও বিস্তারিত খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সেসব প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা সাময়িক কর্মবিরতিতেও গিয়েছিলেন।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভারতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষের একটি পুরনো ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকে নারী গ্রাহকদের ওপর হামলার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব।







