ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ জয়ী ৩ বাংলাদেশি কি শিবিরের কর্মী?

ছবি: আগামীর সময়
ইউরোপের ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’-এর ৩ নেতাকর্মী জয়লাভ করেছেন—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’-এর একটি আসল ফটোকার্ডকে ডিজিটালি সম্পাদনা বা এডিট করে এই ভুয়া তথ্যটি ছড়ানো হচ্ছে।
অপপ্রচারের সূত্রপাত ও ছবির উৎস
ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটি হুবহু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ডিজাইন ও আদলে তৈরি। কার্ডটিতে তিনজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ছবি ব্যবহার করে নিচে তাঁদের শিবির সংশ্লিষ্টতার দাবি যুক্ত করা হয়েছে। ফটোকার্ডটির ওপরের অংশে বিডিনিউজের লোগো এবং গত ১৭ জুন এর তারিখ উল্লেখ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘খালিদ সাইফুল্লাহ’ নামের একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকেই প্রথম এই বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ডটি পোস্ট করে অপপ্রচার শুরু করা হয়েছিল।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ অনুসন্ধান করা হয়। ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’-এর মাধ্যমে বিডিনিউজের আসল ফটোকার্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়, যার মূল শিরোনাম ছিল— ‘ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে জয়ী ৩ বাংলাদেশি’।
বিডিনিউজের মূল সংবাদটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্বাচনে জয়ী ওই ৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কোনো প্রকার রাজনৈতিক পরিচয় বা ছাত্রসংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার কথা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। তাঁরা সম্পূর্ণ সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এই আন্তর্জাতিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে আরও নিশ্চিত হতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং তাদের প্রচার মাধ্যমগুলো যাচাই করা হয়েছে। সেখানেও ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে জয়ী এই শিক্ষার্থীদের নিজেদের নেতাকর্মী হিসেবে দাবি করার মতো কোনো তথ্য বা অভিনন্দন বার্তার অস্তিত্ব মেলেনি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিশিয়াল ফটোকার্ডের লেখা ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবর্তন বা বিকৃত করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।







