গবাদিপশু চুরির ঘটনাকে ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’ বানিয়ে অপপ্রচার

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি ‘@HinduVoice_in’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীর কান্নার ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হয়—যশোর জেলার বাঘুটটিয়া ইউনিয়নে সশস্ত্র ইসলামপন্থীরা তার পরিবারের সব গবাদিপশু চুরি করে নিয়ে গেছে। পোস্টটিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, পরিবারটির ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তাদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চোরের দলটি কেবল হিন্দু পরিবার নয়; বরং একই রাতে ওই গ্রামের একাধিক মুসলিম পরিবারের ঘর থেকেও গবাদিপশু চুরি করেছে। অন্য চুরিগুলোর তথ্য গোপন রেখে একটি সাধারণ চুরিকে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও ঘটনার বিস্তারিত
সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে যশোরভিত্তিক স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক স্পন্দন’-এর একটি প্রতিবেদনের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই রাতে বাঘুটটিয়া ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে একদল সংগঠিত চোর আব্বাস গাজী, দুলাল মণ্ডল ও প্রদীপ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে গবাদিপশু চুরি করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি ট্রাকে করে এসে চোরের দলটি এসব পশু নিয়ে যায়।
সংবাদমাধ্যম ‘ধ্রুব নিউজ’-এর প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয় যে, ওই রাতে মোট তিনটি অসচ্ছল পরিবারের ৬টি গবাদিপশু চুরি হয়েছে। বাঘুটটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তায়েবুর রহমান জানান, চুরি হওয়া পশুগুলোর আনুমানিক মোট বাজারমূল্য ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
ঘটনার বিষয়ে অভয়নগর থানার ওসি এস. এম. নুরুজ্জামান জানান, ভাটপাড়া পুলিশ ক্যাম্প থেকে কর্মকর্তা পাঠিয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
পরবর্তীতে ‘একুশে টিভি’র (ETV) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাগেরহাটের ফকিরহাট থানা পুলিশ খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলা থেকে ১১টি সন্দেহভাজন চোরাই গবাদিপশু এবং একটি ট্রাক জব্দ করেছে। অভয়নগর থেকে চুরি যাওয়া ৬টি গবাদিপশু এর মধ্যে রয়েছে কি না, পুলিশ তা মিলিয়ে দেখছে।
প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও পুলিশি অনুসন্ধানে এটি স্পষ্ট যে, এক্স-এ প্রচারিত দাবিটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। চোরেরা কোনো নির্দিষ্ট পরিবারকে তাদের ধর্মের কারণে লক্ষ্যবস্তু করেনি; বরং হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের একাধিক পরিবারের গবাদিপশু চুরি হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা থেকে অন্য ভুক্তভোগীদের তথ্য আড়াল করে এক্স-এ বাংলাদেশকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।







