নারী নির্যাতনের ভিডিওটি বাংলাদেশে নয়, ভারতের

ছবি: আগামীর সময়
এক নারীর ওপর প্রকাশ্যে রাস্তায় নৃশংস হামলার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে আবেগঘন ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে— ‘দেশটা কি থেকে কি হয়ে গেলো মাবুদ! 😭’, যা দেখে সাধারণ নেটিজেনদের মনে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, ঘটনাটি বাংলাদেশের।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এ দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়, বরং এটি ভারতের মহারাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস অপরাধের সিসিটিভি ফুটেজ।
ভিডিওর আসল উৎস ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করা হলে মূলধারার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ (Times of India)-তে গত ১৪ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ‘Maharashtra shocker: Woman Stabbed Multiple Times in Neck’ শিরোনামের সেই মূল প্রতিবেদনের দৃশ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশে ছড়ানো ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
প্রকৃত ঘটনা ও প্রেক্ষাপট
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পালঘার জেলার গোল্ড সিনেমা এলাকার। সেখানে গত ১২ জুন (শুক্রবার) ভরদুপুরে এক নারীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত ওই নারীর নাম স্নেহাল সাওয়ান্ত (২৭), যিনি পালঘার জেলা কালেক্টর অফিসে কর্মরত আছেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আমোল মুলেকে গ্রেপ্তার করে, যিনি পেশায় আদালতের একজন অফিস সহকারী।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র নয়। ভারতের মহারাষ্ট্রে একজন কর্মজীবী নারীর ওপর তারই পরিচিত এক ব্যক্তির হামলার পুরনো সিসিটিভি ফুটেজ এটি। ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট ও আসল ঘটনা আড়াল করে, ভিডিওটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।





