নুরাল পাগলার মরদেহ তোলার ভিডিও ছড়াল আ. লীগ নেতার লাশ বলে

ছবি: আগামীর সময়
রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি রংপুরের কোনো ঘটনার নয়। এটি ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলার’ কবর ও দরবার শরিফে হামলার সময়ের দৃশ্য।
কী ভিডিও ছড়াচ্ছে?
ফেসবুকের ‘সুরিয়া ভাই’ নামের একটি পেজ থেকে গত ৫ নভেম্বর ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এর ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির মৃত লাশ কবর থেকে উঠিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল জামায়াত শিবিরের পাকিস্তানি দালালেরা।’
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি মাটি খুঁড়ে একটি কবর থেকে মরদেহ তুলে আনছেন। পরে মরদেহটি একটি কফিনে রাখা হয় এবং সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওর শেষাংশে খোলা জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ সময় আগুনের আশপাশে কয়েকজন মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ২ হাজার ২০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। এতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৭ হাজারের বেশি।
যাচাইয়ে যা মিলেছে
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘The News’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘একেবারে মাটি খুঁড়ে নুরাল পাগলের লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলার চাঞ্চল্যকর ভিডিও’ শিরোনামের ওই ভিডিওর সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।
একই তারিখে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজেও এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলা নামে পরিচিত এক ব্যক্তির দরবারে হামলা এবং কবর থেকে মরদেহ তুলে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
এ ছাড়া প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান করে দৈনিক ইত্তেফাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনের ১১তম সেকেন্ডে একই ধরনের পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে কবর থেকে মরদেহ তুলতে দেখা যায়। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির মরদেহ বলে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ওই দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলার’ কবর, বাড়ি ও দরবার শরিফে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা তার মরদেহ কবর থেকে তুলে মহাসড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
সুতরাং, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির মরদেহ কবর থেকে তুলে জামায়াত-শিবিরের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর।
ভিডিওটি রংপুরের কোনো ঘটনা নয়; এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার কবর ও দরবার শরিফে হামলার পুরনো দৃশ্য।





