ব্যবসায়ীকে চড় মারা ব্যক্তি জামায়াত নেতা নন

ছবি: আগামীর সময়
ভোলার এক ব্যবসায়ীকে চড় মারার পুরনো ঘটনার ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা চলছে। পোস্টে দাবি করা হয়, নারীঘটিত বিষয়ে জামায়াত এমপিকে নিয়ে সমালোচনা করায় জামায়াত নেতা এক ব্যবসায়ীর ওপর চড়াও হয়েছেন। তবে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে প্রমাণিত হয়েছে, ভিডিওর হামলাকারী ব্যক্তি জামায়াতের কেউ নন; তিনি ভোলার চরসামাইয়া ইউনিয়ন বিজেপির আহ্বায়ক আবুল কালাম মাতব্বর।
ভাইরাল ভিডিও ও আসল ঘটনার অনুসন্ধান
২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি প্রোফাইল থেকে ভাইরাল ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়— ‘নারী সমন্বয়ক নিয়ে কট জামায়াত এমপিকে নিয়ে সমালোচনা করায় ব্যবসায়ীর ওপর জামায়াত নেতার হামলার দৃশ্য!!’। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে আঙুল উঁচিয়ে বাগ্বিতণ্ডা করতে এবং একপর্যায়ে সজোরে চড়-থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।
ঘটনার সত্যতা জানতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে, ফেসবুকে ‘তকি খান’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে ২১ জুলাই পোস্ট হওয়া একই দৃশ্যের ভিডিওটি সামনে আসে। ওই পোস্টে লেখা হয়— ‘ভোলায় ক্ষমতাসীন নেতা কর্তৃক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ, চরসামাইয়া ইউনিয়ন বিজেপির আহ্বায়ক আবুল কালাম মাতব্বরের বিরুদ্ধে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে।’ ক্যাপশনের শেষে তকি খান নিজেকে সাংবাদিক এবং ভোলা জেলা ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বলে উল্লেখ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত ২০ জুলাই ছড়িয়ে পড়া আরেকটি পোস্টে জানা যায়, ভোলার শান্তিরহাট বাজারের ভেতরে একটি টেলিকম ও মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের ব্যবসায়ী সোহাগের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে তাকে মারধর করে এবং দোকানে হামলা চালায় আবুল কালাম মাতব্বর ও তার লোকজন। অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করা হলে এ ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনও পাওয়া যায়।
মূলধারার গণমাধ্যম ও বিজেপি সভাপতির বক্তব্য
ঘটনাটি নিয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে একাধিক মূলধারার সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সংবাদ প্রতিবেদনগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মারধরকারী ব্যক্তি জামায়াতের কোনো সদস্য বা নেতা নন। তিনি ভোলার সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বিজেপি নেতা।
বিষয়টি নজরে আসার পর ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ব্যাপারে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।
সামগ্রিক তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘ব্যবসায়ীকে মারধরকারী ব্যক্তি জামায়াত নেতা’ দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। ভোলার শান্তিরহাট বাজারে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালানো ব্যক্তি বিজেপির স্থানীয় নেতা আবুল কালাম মাতব্বর। দলীয় পরিচয় বিকৃত করে জামায়াতে ইসলামীর নাম জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।







