কারওয়ান বাজারে চাঁদা না দেওয়ায় হত্যার খবরটি সত্য নয়

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি কিছু ছবি শেয়ার করা হয়, যেখানে একদল লোককে এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে দেখা যায়। পোস্টে দাবি করা হয় যে, ঘটনাটি ঢাকার কারওয়ান বাজারে ঘটেছে এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভুক্তভোগীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তবে তথ্য যাচাইয়ে জানা গেছে যে দাবিটি মিথ্যা। ছবিগুলোর সাথে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই; এগুলো ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের দিল্লিতে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের ভিডিও থেকে নেওয়া।
কী দাবি করা হচ্ছে?
গত ২৬ আগস্ট বেশ কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলে ৪ টি ছবি আপলোড করা হয়।
ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে:
প্রথম ছবি: গলির মাঝখানে কয়েকজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে। একজন ব্যক্তি হাতে লাঠি বা রড জাতীয় কিছু নিয়ে নিচু হয়ে আক্রমণের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। কাছেই আরও কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখছেন বা জড়িত রয়েছেন।
দ্বিতীয় ছবি: গলির ডান পাশে রাস্তার ওপর একজনকে শুয়ে বা পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আশেপাশে একাধিক লোক জড়ো হয়ে আছেন এবং পেছনের দিকে একটি মোটরসাইকেল পার্ক করা রয়েছে।
তৃতীয় ছবি: এটি আগের ফ্রেমেরই কাছাকাছি একটি দৃশ্য। মাটিতে একজন ব্যক্তি পড়ে আছেন এবং তার চারপাশে কয়েকজন মানুষ ঝুঁকে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছেন। বাঁ দিকে দুই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কথা বা পর্যবেক্ষণ করছেন।
চতুর্থ ছবি: দৃশ্যটিতে মানুষকে হেঁটে দূরে সরে যেতে বা ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। নিচের দিকে একটি কুকুরকে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে।
ছবির ক্যাপশনে লেখা- ‘চাঁদার টাকা না দেওয়ায় লোকটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলল, ঘটনাটি ঘটেছে কারওয়ান বাজারে’।
ফেসবুকে ‘Habibur Rahaman Tarafder’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আজ শুক্রবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ বার শেয়ার হয় পোস্টটি, এতে সাড়ে ৪ হাজরেরও বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে। আরও কিছু পেজ ও আইডি থেকেও প্রায় একই ক্যাপশনে ছবিগুলো ছড়াতে দেখা যায়।
আসল ঘটনা কী?
ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে রিভার্স-ইমেজ সার্চ করে এবং লাইভমিন্ট, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে একই দৃশ্য খুঁজে পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী যোগেন্দ্র সিং, যিনি দিল্লির কালকাজী মন্দিরে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণে সহায়তা করতেন। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট রাতে "চুন্নি প্রসাদ" বিতরণ নিয়ে একটি বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং তা পরবর্তীতে শারীরিক হামলায় রূপ নেয়। বেশ কয়েকজন ব্যক্তি যোগেন্দ্র সিংকে লাঠি দিয়ে মারধর করে, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
সিংকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরে তিনি মারা যান। পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে এবং হত্যার সাথে জড়িত অন্তত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
অতএব, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছবিগুলোতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে চাঁদা না দেওয়ায় কাউকে হত্যার দৃশ্য দেখানো হয়নি। এগুলো ভারতের দিল্লির একটি মন্দিরে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যোগেন্দ্র সিংকে হত্যার ঘটনার দৃশ্য। স্থান এবং ঘটনা উভয়ই পরিবর্তন করে, ভারতের একটি অপরাধমূলক ঘটনাকে ভুলভাবে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে চালানো হয়েছে এবং একে চাঁদাবাজিসংক্রান্ত হত্যা হিসেবে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।








