সাই পল্লবীর ৮ কোটির বাড়ি, অথচ জাঁকজমকহীন!

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী সাই পল্লবী। তিনি এখন রয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে। বহুল প্রতীক্ষিত মেগা প্রজেক্ট ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ সিনেমায় ‘সীতা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। এ বছরের শেষেই বড় পর্দায় দেখা যাবে সিনেমাটি।
সিনেমার পর্দায় যতই গ্ল্যামার থাকুক না কেন, বাস্তব জীবনে সাই পল্লবী কতটা সাধারণ ও মাটির মানুষ, তা তার বাড়িটি দেখলেই বোঝা যায়। ভারতের কোয়েম্বাটুরে অবস্থিত তার পারিবারিক বাড়িটির মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৮ কোটি রুপি হলেও, সেখানে নেই কোনো আধুনিক জাঁকজমক বা চটকদার দেখনদারি।
ঐতিহ্য, সরলতা আর মায়ায় ঘেরা সেই বাড়ির ভেতরের কিছু দারুণ খুঁটিনাটি সামনে এসেছে।
সাই পল্লবীর বাড়ির বসার ঘরটি তৈরিই করা হয়েছে পুরো পরিবারকে একসঙ্গে ধরে রাখার জন্য। আজকালকার করপোরেট ডিজাইনের ধার না ধেরে, ঘরটিতে রাখা হয়েছে ক্লাসিক ধাঁচের কাঠের আসবাবপত্র।
মেঝেতে রয়েছে প্রাকৃতিক পাথর ও সাধারণ টাইলস। আরামদায়ক সোফাগুলো এমনভাবে সাজানো, যাতে পরিবারের সবাই মুখোমুখি বসে মন খুলে আড্ডা দিতে পারেন।
শোবার ঘরগুলো বেশ প্রশস্ত এবং সেখানে যাতে ভরপুর প্রাকৃতিক আলো-বাতাস আসতে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঘরের দেয়ালে ও পর্দায় ব্যবহার করা হয়েছে চোখের শান্তি দেয় এমন হালকা রঙ।
জাঁকজমকহীন এই ঘরগুলোয় রয়েছে কাঠের খাট, সাধারণ আলমারি আর পড়ার টেবিল। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে শান্তিতে একটু জিড়িয়ে নেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতেই পারে না।
সাই পল্লবীর পরিবার তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শিকড়কে কতটা শ্রদ্ধা করে, তার প্রমাণ মেলে বাড়ির প্রার্থনা কক্ষে। ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণ জুড়ে রয়েছে কাঠের তৈরি চমৎকার একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির। পিতলের প্রদীপ, তাজা ফুল আর ধূপকাঠির সুবাসে এই জায়গাটিতে সবসময় এক স্বর্গীয় ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
বাড়ির রান্নাঘরটি আধুনিক কিন্তু ভীষণ কার্যকর। নোব্রোকারের তথ্য অনুযায়ী, রান্নাঘরে রয়েছে গ্রানাইটের কাউন্টারটপ এবং গোছানো কাঠের ক্যাবিনেট।
তবে এই বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো এর প্রকৃতিপ্রেম। বারান্দা থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদ বা আঙিনা—সবখানেই টবে সাজানো সারি সারি গাছপালা। এ ছাড়া রয়েছে একটি বড় সবুজ বাগান, যেখানে সকালের এক কাপ চা হাতে কিংবা শান্ত সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে দারুণ সময় কাটান অভিনেত্রী।
৮ কোটির এই বাড়িটি কোনো রাজকীয় আতিশয্যের জন্য নয়, বরং এর ভেতরের খাঁটি ভারতীয় ঐতিহ্য, পারিবারিক উষ্ণতা এবং সরলতার জন্যই আজ নেটপাড়ায় প্রশংসিত হচ্ছে।





