কেমন হলো যশের নতুন সিনেমা ‘টক্সিক’?

সংগৃহীত ছবি
চার বছরের দীর্ঘ বিরতি এবং ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর ১২৫০ কোটি রুপির ইতিহাস গড়ার পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে ফিরলেন রকিং স্টার যশ। কেজিএফের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর যশ কেবল কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির তারকা থাকেননি, বরং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এক বিশাল ভক্তকুলের ভালোবাসায় রাতারাতি প্যান-ইন্ডিয়ান সুপারস্টারে পরিণত হয়েছেন।
তাই গীতু মোহনদাস পরিচালিত ও প্রায় ৫০০ কোটি রুপির বিশাল বাজেটে তৈরি ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ সিনেমা নিয়ে দর্শকমহলে কৌতূহলের শেষ ছিল না। অ্যাকশন, রক্তপাত ও উগ্র পৌরুষের গল্পে সাজানো এই পিরিয়ড গ্যাংস্টার ড্রামাটি কি দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারল?
‘টক্সিক’ কোনো সাধারণ বা চিরাচরিত গ্যাংস্টার ড্রামা নয়। পিরিয়ড ঘরানার এই সিনেমার বড় একটা অংশ ১৯৪০-এর দশকের গোয়ার প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। এতে দেখা যায়, অপরাধ জগতের এক বিশাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে রায়া ও তার বড় বোন গঙ্গা (নয়নতারা)। এই ভাই-বোন যুক্ত হয় সালভাডোর (ড্যারেল ডি'সিলভা) নামের এক প্রভাবশালী মাফিয়া ডনের আফিম সাম্রাজ্যের সঙ্গে, যা তাদের অন্ধকার জীবনকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
পরবর্তীতে সালভাডোরের মেয়ে রেবেকাকে বিয়ে করে রায়া। তবে সে আর দশটা সাধারণ গ্যাংস্টারের মতো নয়; অতীতের নানা ট্রমা আর জীবনের গভীর ক্ষত তাকে ভেতর থেকে এক কঠোর ও বেপরোয়া মানুষে পরিণত করেছে। তার প্রতিটি চালচলনে ও আচরণেই সেই পুরানো ক্ষতগুলোর স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়।
রায়ার জীবনে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের প্রভাবেই নারী সম্পর্কে তার চিন্তাভাবনা গড়ে উঠেছে; ভালোবাসা, আনুগত্য ও বিশ্বাসের মূল শিক্ষাটা তিনি পেয়েছেন নারীদের কাছ থেকেই। বড় বোন গঙ্গা—যাকে তিনি ভীষণ শ্রদ্ধা করেন এবং যার সঙ্গে তার সম্পর্ক একদম অটুট—তাকে ছাড়া জীবনের অন্য নারীরা মূলত তার শারীরিক আকর্ষণ ও কামনার জায়গাতেই সীমাবদ্ধ।
বাস্তবে তার স্ত্রী রেবেকা (তারা সুতারিয়া), প্রেমিকা নাদিয়া (কিয়ারা আদভানি) কিংবা পরবর্তী প্রেমিকা মেলিসা (রুক্মিণী বসন্ত)—সবাই তার উগ্র ও তোয়াক্কাহীন পুরুষালী রূপের প্রতি অন্ধভাবে আকৃষ্ট। নারীদের প্রতি তার এই চরম অহংকার ও আগ্রাসী ভাবমূর্তির পেছনে এমন এক অদম্য টানাটেন রয়েছে, যা তাদের বুঁদ করে রাখে।
তবে এর ব্যতিক্রম শুধু সালভাডোরের প্রেমিকা এলিজাবেথ (হুমা কুরেশি)। তিনি তাকে তীব্র ঘৃণা করেন এবং তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার সুযোগ খোঁজেন।
সিনেমার মূল চালিকাশক্তি যশ নিজেই। একাই দুইটি ভিন্ন রূপ (রায়া ও তার ছেলে টিকিট) দারুণ সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। স্ক্রিনে তার সোয়াগ ও বিশেষ উপস্থিতি দর্শকদের বুঁদ করে রাখে। সেই সঙ্গে নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি ও রুকমিণী বসন্ত—পাঁচজন অভিনেত্রীই নিজ নিজ শক্তিশালী চরিত্রে বাজিমাত করেছেন।
সিনেমার গল্পে সহিংসতার পরিমাণ একটু বেশি এবং দীর্ঘ রানিং টাইমের কারণে কিছু জায়গায় চিত্রনাট্য দুর্বল মনে হতে পারে। তবে গল্পের খামতি ভুলে দর্শককে ধরে রাখে এর বিশ্বমানের ভিজ্যুয়াল, রাজীব রবির দারুণ সিনেমাটোগ্রাফি এবং রবি বসুরুর শক্তিশালী আবহ সংগীত।
‘টক্সিক’ হয়তো পুরোপুরি হলিউড ধাঁচের নিখুঁত গ্যাংস্টার এপিক হতে পারেনি এবং কিছু জায়গায় এতে ‘কেজিএফ’-এর সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে।
তবে ভারতের বড় পর্দায় একদম ভিন্ন ঘরানার ও সাহসী এক সিনেমা উপহার দেওয়ার যে চেষ্টা যশ ও গীতু মোহনদাস করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। যশের ভক্ত ও ডার্ক অ্যাকশনপ্রেমীদের জন্য এটি বড় পর্দায় দেখার মতো একটি সিনেমা।








