‘নাজা’ ডকুমেন্টারি নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ ইসরায়েল?

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার গ্রহণ করেন নির্মাতা রেচেল সোর ও জুভাল আব্রাহাম
অস্কার বিজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর সাফল্যের পর ফের বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন দুই ইসরায়েলি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা জুভাল আব্রাহাম ও রেচেল সোর।
তাদের নতুন ৮০ মিনিটের বিতর্কিত ডকুমেন্টারি ‘নাজা’ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘স্পেশাল জুরি প্রাইজ’ জয় করে নিয়েছে।
প্রদর্শনীর পর টানা ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে হাততালিতে প্রামাণ্যচিত্রটিকে সম্মান জানান বিশ্বজুড়ে আসা দর্শক-সমালোচকেরা।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম প্রশংসিত হলেও, স্বদেশ ইসরায়েলে এই সিনেমার জন্য তীব্র রোষানলে পড়েছেন নির্মাতারা। এমনকি নেতানিয়াহু সরকার তাদের দেশের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।
হিব্রু সামরিক শব্দ ‘নাজা’ । যার অর্থ যুদ্ধের সম্ভাব্য ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষয়ক্ষতি’ বা বেসামরিক নাগরিক হত্যা। এখান থেকে চলচ্চিত্রটির নামকরণ।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রামাণ্যচিত্রে গাজা যুদ্ধে অংশ নেওয়া ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিচয় গোপন রেখে বিস্ফোরক সব জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও সিসিটিভি নজরদারির মাধ্যমে গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হতো।
এক সেনা কর্মকর্তা এমনকি দাবি করেছেন, মাত্র ১ জন নির্দিষ্ট মানুষকে মারতে গিয়ে ৫০০ জন নিষ্পাপ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করার মতো নজিরবিহীন হামলার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল।
সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুক্তি পেতেই আগুনে ঘি পড়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘উস্কানিমূলক ও ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে নির্মাতাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেট’-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, এই তথ্যচিত্রে নিশ্চয়ই হামাসের কোনো গোপন ইন্ধন বা তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির বিষয়টিকে ‘রক্তাক্ত অপবাদ ও চরম মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিতর্ক সত্ত্বেও, নির্মাতারা প্রামাণ্যচিত্রটির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এবং বলেছেন যে এর উদ্দেশ্য হলো গাজায় সামরিক বাহিনীর আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর মুখোমুখি ইসরায়েলি সমাজকে দাঁড় করানো।
আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর যৌথ প্রযোজনায় তৈরি এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রধান পরিচালক জুভাল আব্রাহাম সব আইনি হুমকি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলিদের জন্য চলচ্চিত্রটি দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা যারা হিব্রু ভাষায় কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা তথ্য ও গোপন প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই সিনেমাটি বানিয়েছি। ইসরায়েলিদের নিজেদের আয়নায় নিজেদের সেনাবাহিনীর চেহারা দেখা উচিত।’
জুভাল আব্রাহাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শত বাধা সত্ত্বেও এই সিনেমাটি ইসরায়েলের ঘরে ঘরে প্রচার করতে তারা বদ্ধপরিকর।




