নেপালি সিনেমার কান জয়

পুরস্কার-মঞ্চে (সবার বাঁয়ে) অবিনাশ বিক্রম শাহ (ছবি: কান উৎসবের ওয়েবসাইট)
কান চলচ্চিত্র উৎসবের আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেল অস্ট্রিয়ার সান্ড্রা ওলনার পরিচালিত ‘এভরিটাইম’। জুরি প্রাইজ জিতেছে নেপালের অবিনাশ বিক্রম শাহ পরিচালিত ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। স্পেশাল জুরি প্রাইজ পেয়েছে ফ্রান্সের লুই ক্লিশি পরিচালিত ‘আয়রন বয়’।
গতকাল শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট) দক্ষিণ ফ্রান্সে কান শহরের পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের দ্যুবুসি থিয়েটারে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ছিলেন এবারের আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগের প্রধান বিচারক আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি মুসলিম অভিনেত্রী লেইলা বেখতি। তার নেতৃত্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সেনেগালের প্রযোজক অ্যাঞ্জেলে দিয়াবাং, ইতালিয়ান পরিচালক লাউরা সামানি, ফরাসি পরিচালক টমা কাইয়ে ও লেবানিজ সুরকার খালেদ মুজানার।
২ ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ‘এভরিটাইম’-এর গল্প একটি মর্মান্তিক ঘটনা এক মা, মেয়ে ও কিশোর ছেলেকে একত্র করে। একে অপরকে দোষারোপ ও ক্ষমার দ্বন্দ্বে জর্জরিত এই ত্রয়ী পারিবারিক ছুটি কাটাতে স্পেনের টেনেরিফ দ্বীপ ভ্রমণে যায়। রোদের আলোয় নিঃশব্দে মিশে যেতে শুরু করে তাদের অতীত ও বর্তমান।
এদিকে এবারই প্রথম আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগে জায়গা পেয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার নেপালি সিনেমা। ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’ সিনেমার গল্পে দেখা যায়, বন্য হাতি অধ্যুষিত এক গভীর জঙ্গলে নেপালের একটি গ্রামের কিন্নর সম্প্রদায়ের কর্ত্রী পিরাতি ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু নিজের গোত্রের একটি মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলে তদন্ত করতে নামেন তিনি। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সম্প্রদায়ের প্রতি দায়িত্বের মধ্যে একটি বেছে নিতে হয় তাকে। অভিনয়ে পুষ্পা থিং লামা, আলিজ ঘিমিরে ও জেসমিন বিশ্বকর্মা।
কান থেকে এর আগেও নেপালের জন্য গর্ব বয়ে এনেছেন অবিনাশ বিক্রম শাহ। ২০২২ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে স্পেশাল মেনশন স্বীকৃতি পেয়েছে তার পরিচালিত ‘মেলানকলি অব মাই মাদারস লালাবাইস’। এটাই ছিল কানের যেকোনো বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত প্রথম নেপালি ছবি।
কানে মূল প্রতিযোগিতার পরেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ আঁ সাঁর্তে রিগা। এতে মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নবীন নির্মাতা ও স্বনামধন্য পরিচালকদের চলচ্চিত্র উদযাপন করা হয়। এবারের আসরে নির্বাচিত হয় ১৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এরমধ্যে ছয়জন পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রয়েছে। ফলে এগুলো ক্যামেরা দ’র পুরস্কারের জন্যও প্রতিযোগিতা করছে। গত ১৩ মে আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ছিল ‘টিনেজ সেক্স অ্যান্ড ডেথ অ্যাট ক্যাম্প মিয়াজমা’।
আগামী ২৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ইউজিসি গোবেলাঁ, এমকেটু কে দ্যু সেন এবং লারল্যুকাঁ প্রেক্ষাগৃহে আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগে নির্বাচিত ১৯টি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হবে। এরপর ১০ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত সিনেমাগুলো দেখা যাবে পাতে কনভেনশন প্রেক্ষাগৃহে।
আঁ সাঁর্তে রিগা বিভাগের বিজয়ী তালিকা
সেরা চলচ্চিত্র: এভরিটাইম (সান্দ্রা ওলনার, অস্ট্রিয়া)
জুরি প্রাইজ: এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ (অবিনাশ বিক্রম শাহ, নেপাল), প্রথম সিনেমা
স্পেশাল জুরি প্রাইজ: আয়রন বয় (লুই ক্লিশি, ফ্রান্স)
সেরা অভিনেতা: ব্র্যাডলি ফিওমোনা ডেম্বিয়েসেট (কঙ্গো বয়)
সেরা অভিনেত্রী: মারিনা দে তাভিরা, দানিয়েলা মারিন নাভারো, মারিয়াঞ্চেল ভিগেগাস (ফরএভার ইউর ম্যাটারনাল অ্যানিম্যাল)
৫৮তম ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট
কান চলচ্চিত্র উৎসবের মুক্ত সমান্তরাল বিভাগ ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে এবার ১ হাজার ৮০০টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে ১৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য মুভির পাশাপাশি নির্বাচন করা হয় ৯টি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। গত বৃহস্পতিবার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় ফ্রান্সের দক্ষিণে কান শহরের জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের থিয়েটার ক্রজেতে।
বিজয়ী তালিকা
অডিয়েন্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড (৭৫০০ ইউরো): আই সি বিল্ডিংস ফল লাইক লাইটনিং (ক্লিও বার্নার্ড, যুক্তরাজ্য)
সেরা ইউরোপিয়ান সিনেমা (ইউরোপা সিনেমাস লেবেল অ্যাওয়ার্ড): টু ম্যানি বিস্টস (সারাহ আর্নল্ড, সুইজারল্যান্ড-ইতালি), প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা
সেরা ফরাসি ভাষার সিনেমা (এসএসিডি অ্যাওয়ার্ড): শানা (লিলাপিনেল, ফ্রান্স)
ক্যারস দ’র: ফরাসি পরিচালক ক্লেয়ার দেনি
ইমারসিভ প্রতিযোগিতা
উৎসবের ইমারসিভ প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা ইমারসিভ ওয়ার্ক অ্যাওয়ার্ড জিতেছে ফ্রান্সের উগো আরসাক নির্মিত ‘কাতাবাজিস’। স্পেশাল জুরি মেনশন স্বীকৃতি পেয়েছে স্পেনের দাভিদ বারদোস ও দামিয়া ফেরান্দি নির্মিত ‘দ্য ব্ল্যাক মিরর এক্সপেরিয়েন্স’। প্রতিযোগিতার জুরি সভাপতি ছিলেন ফরাসি-স্প্যানিশ পরিচালক ব্লাঙ্কা লি। তার নেতৃত্বে বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন ফরাসি পরিচালক সেলিন ট্রিকার, ডাচ সুরকার ও পরিচালক মিশেল ফন দের আ, ইংরেজ পরিচালক ও প্রযোজক মেরি ম্যাথেসন এবং তাইওয়ানি পরিচালক সিন-চিয়েন হুয়াং। তারা বলেন, ‘কাটাবাসিস একটি অনবদ্য শিল্পকর্ম। এটি আমাদের আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের মধ্যকার বন্ধনগুলোর সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।’






