‘ট্রেন টু বুসান’ পরিচালকের নতুন ধামাকা ‘কলোনি’

সংগৃহীত ছবি
এক দশক আগে ‘ট্রেন টু বুসান’ সিনেমা দিয়ে বিশ্বজুড়ে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন কোরিয়ান পরিচালক ইওন সাং-হো। জম্বি ঘরানার সিনেমাকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন এক অন্য উচ্চতায়। মাঝে তার ‘পেনিনসুলা’ সিনেমাটি দর্শকদের কিছুটা হতাশ করলেও, এবার তিনি ফিরলেন রাজকীয়ভাবে।
মুক্তি পেয়েছে তার নতুন জম্বি থ্রিলার সিনেমা ‘কলোনি’। একই ঘরানার জম্বি সিনেমা দেখতে দেখতে যারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাদের জন্য এই সিনেমাটি যেন এক নতুন চমক।
পুরো সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি বিশাল বহুতল ভবনকে কেন্দ্র করে। এই ভবনেই রয়েছে একটি বড় বায়োটেকনোলজি কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং একটি শপিং মল। গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, সেও ইয়ং-চিওল নামের এক ক্ষুব্ধ বিজ্ঞানী রেগে গিয়ে কোম্পানিতে এক বায়ো-সন্ত্রাসী হামলা চালায়। সে এমন একটি ল্যাব-মেড ভাইরাস বাতাসে ছেড়ে দেয়, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলেই চোখের পলকে সবাই রক্তপিপাসু ও হিংস্র জম্বি হয়ে যায়।
তবে সিনেমার আসল টুইস্ট বা চমক হলো অন্য জায়গায়। ভাইরাসটি ছড়ানোর ঠিক আগেই বিজ্ঞানী ইয়ং-চিওল নিজে এর প্রতিষেধক বা অ্যান্টিডোট ইনজেকশন দিয়ে নিজের শরীরে পুশ করে নেয়। এর মানে হলো, পুরো দুনিয়ায় জম্বি হওয়া থেকে বাঁচার একমাত্র ওষুধ লুকিয়ে আছে কেবল তার শরীরের রক্তেই!
সাধারণত জম্বি সিনেমায় দেখা যায় জম্বিদের বুদ্ধি থাকে না, তারা শুধু রক্তের খোঁজে দৌড়ায়। কিন্তু ‘কলোনি’ সিনেমার জম্বিরা আলাদা। এই ভাইরাসের কারণে জম্বিদের মধ্যে এক ধরণের যৌথ বুদ্ধিমত্তা বা ‘হাইভ ইন্টেলিজেন্স’ তৈরি হয়। অর্থাৎ, তারা দলগতভাবে চিন্তা করতে পারে।
লড়াইয়ের সময় একজন জম্বি যদি মানুষের কোনো চালাকি বা দুর্বলতা ধরে ফেলে, সেই খবর মুহূর্তের মধ্যে সব জম্বির মাথায় চলে যায়! যেমন—সিনেমার শুরুতে জম্বিদের ধোঁকা দিতে মানুষ কাপড়ের দোকানের পুতুল বা ম্যানিকুইন ব্যবহার করেছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই জম্বিরা বুঝে যায় কোনটা আসল মানুষ আর কোনটা পুতুল। এরপর মানুষের সেই পুরানো কৌশল আর কাজে আসে না। জম্বিদের এই প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমান হয়ে ওঠাটাই সিনেমাটিকে দারুণ রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
সিনেমায় জম্বিদের চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন, তাদের শারীরিক কসরত ও চমৎকার কোরিওগ্রাফি ছিল দেখার মতো। তাদের হাড় ভাঙার শব্দ আর অদ্ভুতভাবে শরীর বাঁকানোর দৃশ্যগুলো দর্শকদের মনে সত্যি ভয় ধরিয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, টুকটাক কিছু দুর্বলতা থাকলেও জম্বি বা থ্রিলার ঘরানার দর্শকদের জন্য ‘কলোনি’ একটি মাস্ট-ওয়াচ সিনেমা। চমৎকার লোকেশন, টানটান উত্তেজনা আর বুদ্ধিমান জম্বিদের এই লড়াই আপনাকে পুরো সময় পর্দার সামনে বসিয়ে রাখবে।





