শুটিং সেটে শ্রমিকের মৃত্যু, বানসালির কাছে চাওয়া হচ্ছে ৫০ লাখ রুপি

সঞ্জয় লীলা বানসালি
সঞ্জয় লীলা বানসালির সেট মানেই লার্জার-দ্যান-লাইফ ক্যানভাস, সুবিশাল রাজপ্রাসাদ আর সূক্ষ্ম নিখুঁত শিল্পকর্ম। কিন্তু এই চোখধাঁধানো গ্ল্যামারের পেছনে দিনরাত এক করে যে হাজার হাজার টেকনিশিয়ান, স্পটবয় ও দিনমজুর খাটেন, তাদের জীবনের নিরাপত্তা কতটুকু? সেই পুরনো প্রশ্নটি আবারও সামনে এনে দিল ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর সেটের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
যদিও বানসালি প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, তবুও মুম্বাইয়ের ফিল্ম ইউনিয়নগুলো সেটের ওয়্যারিং ও ইলেকট্রিক সেফটি অডিট নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
ইনসাইডারদের তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের ফিল্মসিটিতে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর জন্য একটি বিশালাকার ১৯৪০-এর দশকের যুদ্ধকালীন ব্যাকড্রপ ও আর্মি ক্যাম্পের সেট তৈরি করা হচ্ছিল।
১৭ই জুন ভোররাতের শিফটে ভারী বৃষ্টি ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার মধ্যে কাজ করছিলেন কাঠমিস্ত্রি চন্দ্রমণি সিং। তখনই একটি লাইভ তারের সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এফডব্লিউআইসিই-এর সভাপতি বি এন তিওয়ারি স্পষ্ট করেছেন, বড় বড় প্রোডাকশন হাউজগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও টেকনিশিয়ানদের জন্য অনেক সময় প্রপার ইন্স্যুরেন্স বা অন-সেট মেডিকেল ইমার্জেন্সি টিম রাখে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আইনি ও ইউনিয়ন জটিলতার মধ্যেই ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ নিয়ে সিনেমা মহলে হাইপ তুঙ্গে। রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশলের ‘সাঞ্জু’-র পর অন-স্ক্রিন ফেসঅফ এবং বাস্তব জীবনের দম্পতি রণবীর-আলিয়ার বানসালি ইউনিভার্সে কামব্যাক, সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির এই রিলিজটিকে বক্স অফিসের অন্যতম বিগেস্ট গেম-চেঞ্জার ধরা হচ্ছে। তবে এই ট্র্যাজেডির পর শুটিং শিডিউলে সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ ক্ষেত্রে ইউনিয়নের এই কড়া অবস্থান বলিউডের অন্যান্য নির্মাতাদের জন্যও একটি বার্তা। দিনমজুরদের মৃত্যুর পর নামমাত্র টাকা দিয়ে দায় সেরে ফেলার দিন শেষ। বানসালির কাছে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা এবং সন্তানদের আজীবন পড়াশোনার যে দাবি করা হয়েছে, তা ফিল্ম সিটির শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।





