সালমান খানকে হুমকি দেওয়া বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রে আটক

হ্যারি বক্সার
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা সালমান খান, টাইগার শ্রফসহ একের পর এক অভিনেতা, পরিচালককে হুমকি দেওয়া লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হরি বক্সারকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় তাকে আটক করা হয়।
এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং হরিয়ানা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়। হরি বক্সারের আসল নাম হরিচাঁদ জাট। দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজর ছিল তার ওপর। বিশেষ করে বলিউড পরিচালক রোহিত শেট্টির মুম্বাইয়ের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনার পর থেকে তাকে ধরার তৎপরতা বাড়ে।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, হুমকি দেওয়া এবং চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে ধারণা।
কে এই হ্যারি বক্সার
মূলত রাজস্থানের বাসিন্দা বক্সার ‘লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের’ আন্তর্জাতিক চাঁদাবাজি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। জয়পুরে বক্সিং শেখার সময় থেকেই তার এই ‘বক্সার’ ডাকনামটি হয়।
রাজস্থানের জয়পুর, আলোয়ার, সিকার, ঢোলপুর এবং কারাউলিসহ একাধিক জেলায় তার বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। ২০২২ সালে তিনি ভারত থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ বা সুসম্পর্ক রাখার জেরে রোহিত শেট্টি, তুষার কাপুর এবং রণবীর সিংসহ বলিউডের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কানাডায় কৌতুকাভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে গুলি চালানোর ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছে এনডিটিভি।
১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় অভিযুক্ত হয় বিষ্ণোই গ্যাং। এর পর ২০১৮ সাল থেকে সালমান খানের ওপর ক্ষুব্ধ গ্যাংটি। গ্যাং প্রধান লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের সবরমতি জেলে বন্দি।
কয়েকদিন আগেই হিমাংশু ভাও এবং নীরজ ফরিদপুরিয়া নামে আরও দুই গ্যাংস্টার যুক্তরাষ্ট্রে আটক হন। ভারতে সংগঠিত অপরাধ ও একাধিক হত্যাকাণ্ডের মামলায় তারা দুজনই ওয়ান্টেড ছিলেন।
সিবিআইয়ের মাধ্যমে বক্সারকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দেশে ফেরানো হলে গ্যাংটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং বলিউড তারকাদের ওপর হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ে অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণের ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডায় থাকা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অপারেটিভরা কড়া নজরদারির আওতায় আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, গ্যাংটির আসল লক্ষ্য হয়তো ছিলেন অভিনেতা আমির খান; তবে তাকে না পেয়ে শুটাররা টাইগার শ্রফকে টার্গেট করে।




