নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা পরমব্রত, তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে করা একটি পোস্ট ঘিরে ফের আইনি জটিলতায় পড়লেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আপাতত সেই আবেদন গ্রহণ করল না আদালত। তবে সাময়িকভাবে স্বস্তি মিলেছে অভিনেতার। আগামী চার সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত।
শুক্রবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলবে। সেই সঙ্গে তদন্তে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পরমব্রতকে।
উল্লেখ্য যে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের সময়কার একটি পোস্টকে ঘিরে। সে সময় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ শিল্পীদের উদ্দেশে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস জয়ের দিকে এগোতেই সেই মন্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়া হিসাবে পরমব্রত সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।”
আর এই ঘটনায় আইনজীবী জয়দীপ সেন গড়িয়াহাট থানায় অভিনেতার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ভোট-পরবর্তী অশান্ত পরিবেশে এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছিল। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে করা ওই পোস্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
শুধু পরমব্রত নন, অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও এই মামলায় জড়িয়ে পড়েন। কারণ, পরমব্রতের পোস্টের নিচে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “হাহাহা হোক হোক!” অভিযোগকারীর দাবি, এই মন্তব্যও উসকানিমূলক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা নিয়েছিল।
গত ২১ মে পুলিশ স্বস্তিকার বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করে। তাকে সাত দিনের মধ্যে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ২৩ মে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন অভিনেত্রী। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। পরে তিনি থানার বাইরে বেরিয়ে আসেন।







