ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমার নায়িকারা পরতেন তারই সংগ্রহের গয়না

বাংলা চলচ্চিত্রে নান্দনিকতা, রুচি এবং চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন এক অনন্য নাম। তাঁর সিনেমার গল্প, সংলাপ কিংবা দৃশ্য নির্মাণ নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁর শিল্পীসত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পোশাক ও গয়না নিয়ে অসাধারণ সংবেদনশীলতা। পর্দায় নায়িকাদের গায়ে দেখা যাওয়া অনেক গয়নাই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহের অংশ।
ঋতুপর্ণ ঘোষের ঘনিষ্ঠজন, সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি এক স্মৃতিচারণায় এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ঋতুপর্ণ ঘোষের বাড়ি ছিল যেন একটি জীবন্ত জাদুঘর। শাড়ি, গয়না, পুরোনো আসবাব, শিল্পবস্তু এবং নানা সংগ্রহে ভরা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর।
অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, একদিন আড্ডার ফাঁকে ঋতুপর্ণ ঘোষ নিজেই জানিয়েছিলেন, তাঁর সিনেমার নায়িকারা যে গয়নাগুলো পরেন, সেগুলোর অধিকাংশই আসলে তাঁর নিজের সংগ্রহের। শুধু গয়নাই নয়, অনেক শাড়িও ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে নেওয়া। ভবিষ্যতে ইচ্ছে হলে নিজেই সেগুলো ব্যবহার করবেন বলেও মজা করে জানিয়েছিলেন নির্মাতা।
ঋতুপর্ণ ঘোষের চলচ্চিত্রে গয়নার ব্যবহার কখনোই শুধুমাত্র সাজসজ্জার জন্য ছিল না। চরিত্রের সামাজিক অবস্থান, সময়কাল, মানসিক অবস্থা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে তিনি পোশাক ও অলঙ্কারকে গল্প বলার ভাষার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতেন।
এই নন্দনচেতনার অন্যতম উদাহরণ ‘চোখের বালি’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে ঐশ্বরিয়া রাই-এর লুক আজও দর্শকদের কাছে স্মরণীয়। সময়কাল উপযোগী গয়না, চুলের অলঙ্কার এবং ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজ সিনেমাটিকে দিয়েছিল আলাদা মাত্রা। মুক্তির পর সেই ধরনের গয়নার জনপ্রিয়তাও বেড়েছিল বলে সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঋতুপর্ণ ঘোষের গয়নাপ্রীতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ব্যক্তিগত আবেগও। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রয়াত মায়ের সংগ্রহে থাকা কিছু গয়নাও তিনি চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছেন। ‘সানগ্লাস’ সিনেমার জন্য প্রয়োজনীয় একটি মুক্তোর হার খুঁজে না পেয়ে তিনি মায়ের গয়নার বাক্স থেকে একটি হার বের করে অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মাকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। সেই গয়নার সঙ্গে তাঁর আবেগগত সম্পর্ক ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।








