আলাউদ্দিন আলীর সুর করা যেসব গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল

আলাউদ্দিন আলী
বাংলা গানের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আট বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার সুর করা গানের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি।
আলাউদ্দিন আলী ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন এবং ২০২০ সালের ৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।
আলাউদ্দিন আলীর লেখা, সুর করা ও সংগীত পরিচালনায় অসংখ্য গান শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। চলচ্চিত্র, বেতার, টেলিভিশন মিলে হাজার হাজার গান তৈরি করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বহু স্বনামধন্য শিল্পী আলাউদ্দীন আলীর সুরে গান করেছেন। তার সুর করা গানের মধ্যে ‘যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে, মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসত’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, ‘দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয়’, ‘এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না’ ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি ও আমার বাংলাদেশ’, ‘এমনও তো প্রেম হয়, চোখের জলে কথা কয়’, ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরনি’, ‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম দেখা পাইলাম না’, ‘আমায় গেঁথে দাওনা মাগো, একটা পলাশ ফুলের মালা’, ‘হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ’, ‘শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমার জীবনে এলে’, ‘পারি না ভুলে যেতে, স্মৃতিরা মালা গেঁথে’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে।
আলাউদ্দীন আলী ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৯), ‘সুন্দরী’ (১৯৮০), ‘কসাই’ এবং ‘যোগাযোগ’ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন।
তার সহধর্মিণী নজরুলসংগীতশিল্পী সালমা সুলতানা ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এই দম্পতির মেয়ে আলিফ আলাউদ্দিনও একজন সংগীতশিল্পী।





