অমর সুরস্রষ্টা আলাউদ্দীন আলীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আলাউদ্দীন আলী
বাংলা চলচ্চিত্রের গান বলতেই যে কজন প্রখ্যাত সুরস্রষ্টার নাম সবার আগে হৃদয়ে ভেসে ওঠে, তাদের মধ্যে অন্যতম সুরের যাদুকর আলাউদ্দীন আলী। তিনি কেবল সফল কোনো সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন না; বাংলা চলচ্চিত্রের সুরের ব্যাকরণ ও আবেগের ভাষাকে তিনি নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।
আজ এই মহান সংগীত সাধকের মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০২০ সালে এই দিনে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
বাবা উস্তাদ যাদব আলী ও মা জোহরা খাতুনের কোল আলো করে আসা আলাউদ্দীন আলীর জন্মই হয়েছিল সুরের কোলে। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক শিক্ষকদের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কঠোর শৃঙ্খলায় নিজেকে গড়ে তোলেন।
পাশাপাশি বেহালা বাজানোতেও পারদর্শী ছিলেন তিনি। ঢাকা অর্কেস্ট্রায় বেহালা বাজাতে গিয়েই সুবল দাস, আলতাফ মাহমুদ, খান আতাউর রহমান ও আনোয়ার পারভেজের মতো গুণীজনদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয় তার।
তিনি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান যেমন ‘ও আমার বাংলা মা’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ সৃষ্টির মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, যা দেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসাকে ফুটিয়ে তোলে।
পাশাপাশি, ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো’ বা ‘আমারে ভুলিয়া যাও’-এর মতো আবেগঘন গানের মাধ্যমে খুব সাধারণ সুরেই তিনি মানুষের মনের গভীর হাহাকার ও কষ্ট দারুণভাবে প্রকাশ করতে পারতেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সিনেমা, রেডিও ও টেলিভিশন মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার গান সুর করেছেন আলাউদ্দীন আলী। আইয়ুব বাচ্চু, হাসান, কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী, সামিনা চৌধুরী, কনকচাঁপা ও মিতালী মুখার্জির মতো তারকাদের চলচ্চিত্রের গানে প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন তিনিই।
আলাউদ্দীন আলীর জন্ম ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। লোকজ ও ধ্রুপদি গানের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা তার সুর। নিজস্ব ধরন দিয়ে তিনি তা নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানের বহু স্বনামধন্য শিল্পী তার সুরে গান করে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছেন।
১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমার মাধ্যমে যে সাফল্যের ট্রেনে তিনি চেপেছিলেন, তা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত থামেনি। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এই সুরকার আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও, তার রেখে যাওয়া সুর আজীবন প্রতিধ্বনি হয়ে বাজবে প্রতিটা বাঙালি হৃদয়ে।





