টেইলর সুইফট থেকে অপরাহ উইনফ্রে— তারকারা ডলি পার্টনকে যেভাবে স্মরণ করছেন

অপরা উইনফ্রে, ডলি পার্টন ও টেইলর সুইফট। ছবি: কোলাজ
সঙ্গীত জগতের এক অনন্য নক্ষত্রের অবসান ঘটল। ক্যানসারের সঙ্গে স্বল্প সময়ের লড়াই শেষে ৮০ বছর বয়সে পাড়ি জমালেন মার্কিন কান্ট্রি মিউজিক কিংবদন্তি ডলি পার্টন। মঙ্গলবার তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্বজুড়ে।
স্যার পল ম্যাককার্টনি, স্যার এলটন জন, অপরা উইনফ্রে থেকে শুরু করে বিয়ন্স ও টেইলর সুইফটের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা এই মহাতারকাকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছেন।
বিটলস সদস্য পল ম্যাককার্টনি ডলিকে ‘এক চমৎকার আলো ছড়ানো তারকা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘ডলিকে ছাড়া এই পৃথিবীটা কল্পনা করাও কঠিন।’
পপ ও রক কিংবদন্তি স্যার এলটন জন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ডলি ছিলেন একজন মহা-শিল্পী—অনন্য ও অপূরণীয়, যাঁর ছিল অপার দয়ালু এক হৃদয়।’
অন্যদিকে, অপরা উইনফ্রি পার্টনের সঙ্গে কাটানো পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে জানান, টেনেসির পাহাড় থেকে উঠে এসে ডলি এমন এক জীবন যাপন করে গেছেন, যা সাধারণের কল্পনারও বাইরে।
কান্ট্রি ঘরানা থেকে উঠে এসে বিশ্ব জয় করা ডলি পার্টন ছিলেন তরুণ প্রজন্মের নারী শিল্পীদের মূল অনুপ্রেরণা। গায়িকা টেইলর সুইফট এক আবেগঘন বার্তায় বলেছেন, ‘ডলি ছাড়া বিশ্বটা মোটেও সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। তিনি এমন এক কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছিলেন বলেই আমাদের মতো মেয়েরা বড় হয়ে একই স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে।’
সঙ্গীত তারকা বিয়ন্স ডলিকে তার জীবনের ‘ধ্রুবতারা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সাবরিনা কার্পেন্টার এবং ডলির ধর্মকন্যা মাইলি সাইরাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয় মানুষকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ডলি পার্টনের জনপ্রিয়তা ছিল গান, রাজনীতি ও সীমানার ঊর্ধ্বে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডলি পার্টনের স্মরণে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন—যা সাধারণ রাষ্ট্রপ্রধানদের বাইরে অন্য কারও জন্য এক বিরল সম্মান। ট্রাম্প বলেছেন, ‘তিনি ছিলেন অনন্য, তার মতো আর কেউ কখনো আসবে না।’
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনও এই গায়িকার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ক্লিনটন বলেন, ‘তিনি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছেও নিজের মূল শিকড় কখনো ভুলেনি এবং আমৃত্যু মানুষকে ভালোবেসে দান করে গেছেন।’
শুধু কালজয়ী গান গেয়েই নয়, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেওয়া এবং সমাজসেবামূলক কাজের জন্য মানুষ তাকে মনে রাখবে চিরকাল। সঙ্গীত, সিনেমা এবং মানব সেবায় নিজের উজ্জ্বল ছাপ রেখে ডলি পার্টন চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া সুর আর ভালোবাসার গল্প রয়ে যাবে যুগে যুগে।







