২০২৭ সালের গ্র্যামি বয়কট করছে বিটিএস, কারণ কী?

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস’-এর বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও পৃথকীকরণের অভিযোগ তুলে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কে-পপ ব্যান্ড ‘বিটিএস’।
রেকর্ডিং একাডেমি কর্তৃক সদ্য ঘোষিত বিতর্কিত ‘এশিয়ান পপ’ বিভাগটি বয়কট করে ২০২৭ সালের ৬৯তম গ্র্যামি আসরে নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই ৭ সদস্যের ব্যান্ডটি।
সম্প্রতি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এক যৌথ বার্তায় বিটিএস জানায়, ‘আমরা এই বছর গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে আমাদের কোনো গান বা অ্যালবাম জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাই আমাদের গান কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা ভাষার গণ্ডিতে আটকে না থেকে স্বাভাবিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাক এবং তারা এটিকে ভালোবাসুক।’
২০২৬ সালে সেনাসেবা বিরতি শেষে পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্ব সংগীতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করা সত্ত্বেও, গ্র্যামির এমন বিতর্কিত নীতির প্রতিবাদেই আসরটি বর্জন করল দলটি।
বিতর্কের মূল সূত্রপাত গ্র্যামির নতুন চালু করা ‘এশিয়ান পপ’ ক্যাটাগরি। কে-পপ ভক্ত ও সংগীত বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মূল প্রতিযোগিতা থেকে এশীয় শিল্পীদের দূরে রেখে একটি আলাদা বক্সে বন্দি করার চক্রান্ত এটি।
সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি করেছে গ্র্যামির ভাষাভিত্তিক শর্ত। নতুন নীতি অনুযায়ী, এশীয় কোনো শিল্পী যদি ইংরেজিতে গান গান তবে তা এই ‘এশিয়ান পপ’ ক্যাটাগরির যোগ্যই হবে না! ফলে এশীয় শিল্পীদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে মূল ধারার সাথে সমান সুযোগ দেওয়ার বদলে উল্টো বৈষম্যের শিকার করা হচ্ছে বলে বিশ্বজুড়ে জোর সমালোচনা চলছে।
বিটিএসের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বিটিএস ভক্ত ও সাধারণ সংগীতপ্রেমীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভক্ত লেখেন, ‘যখন বিশ্ব সংগীতে বিটিএসকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাচ্ছিল না, তখন তাদের মূল পুরস্কার না দিয়ে আলাদা ক্যাটাগরি বানিয়ে বন্দি করে রাখাটা স্পষ্ট বর্ণবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
যদিও এ বিষয়ে আয়োজক সংস্থা ‘দ্য রেকর্ডিং একাডেমি’ এখনো কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য দেয়নি, তবে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত তাদের মনোনয়ন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু থাকছে।
এতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নতুন বিতর্কিত নীতির কারণে ২০২৭ সালের গ্র্যামির মঞ্চে দেখা যাবে না বিশ্ব কাঁপানো এই কোরিয়ান পপ ব্যান্ডকে।





