বিষয় চলচ্চিত্র
হিচককের সাসপেন্স তত্ত্ব

সাইকো। চলচ্চিত্রকার: আলফ্রেড হিচকক
আজ ১৩ আগস্ট ‘মাস্টার অব সাসপেন্স’খ্যাত ব্রিটিশ চলচ্চিত্রকার আলফ্রেড হিচককের জন্মদিন। তার বিখ্যাত সাসপেন্স তত্ত্বের একঝলক রুদ্র আরিফের কলমে
দর্শককে ভয় দেখাতে ভালোবাসতেন তিনি। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, নিজেই ছিলেন ভীষণ ভীতু প্রকৃতির! তার চলচ্চিত্রগুলোতে গা ছমছমে আবহের উপস্থিতি যেকোনো দর্শকের শিরদাঁড়ায় শীতল স্রোত বইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ১৮৯৯ সালের ১৩ আগস্ট ইংল্যান্ডের এসেক্সে জন্ম নেওয়া আলফ্রেড হিচকক ৮০ বছরের আয়ুষ্কালে এমন কিছু চলচ্চিত্র বানিয়েছেন, যেগুলো এখনো বহুল চর্চিত এবং বেশিরভাগ ফিল্ম স্কুলেই অবশ্যপাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
ছয় দশকের ক্যারিয়ারে ৫৩টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘দ্য থার্টি থ্রি স্টেপস’ (১৯৩৫), ‘দ্য লেডি ভ্যানিশেস’ (১৯৩৮), ‘রেবেকা’ (১৯৪০), ‘ফরেন করেসপনডেন্ট’ (১৯৪০), ‘সাসপিশন’ (১৯৪১), ‘শ্যাডো অব আ ডাউট’ (১৯৪৩), ‘স্পেলবাউন্ড’ (১৯৪৫), ‘নটোরিয়াস’ (১৯৪৬), ‘রিয়ার উইন্ডো’ (১৯৫৪), ‘ডায়াল এম ফর মার্ডার’ (১৯৫৪), ‘ভার্টিগো’ (১৯৫৮), ‘সাইকো’ (১৯৬০), ‘দ্য বার্ডস’ (১৯৬৩), ‘ফ্রেঞ্জি’ (১৯৭২) প্রভৃতি।
শুরুর দিকে মিস্ট্রি ধারার প্রতি ঝোঁক থাকলেও পরে সাসপেন্সে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন হিচকক।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “মিস্ট্রি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া, যেখানে ‘এ কাজ কে করেছে’ ধরনের অনুসন্ধান করা হয়। কিন্তু সাসপেন্স অনিবার্যভাবেই একটি আবেগাত্মক প্রক্রিয়া। দর্শককে শুধু তথ্য জানানোর মাধ্যমেই সাসপেন্স তৈরি করা সম্ভব।” এর উদাহরণ তার বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোতে ছড়িয়ে রয়েছে।
হিচককের সাসপেন্স তত্ত্বের প্রথম নিয়মটি ছিল, চলচ্চিত্র শুরু হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব দর্শকের কাছে কোনো তথ্য উপস্থাপন করা। এরপর কোনো একটি চরিত্রের ভেতর দিয়ে দর্শকের মনে ওই তথ্যের ভিত্তিতে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা বোধের জন্ম দেওয়া। চরিত্রটি যেহেতু ওই তথ্য জানে না, ফলে দর্শক অবাক হয়ে দেখতে থাকেন, ওই চরিত্র কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। এভাবে চলচ্চিত্রটির আখ্যানের সঙ্গে দর্শকের সরাসরি সংযোগ গড়ে দিয়েছেন হিচকক।
এর উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বহুবারই বলেছেন, ধরা যাক কোনো টেবিলের নিচে বোমা রাখা আছে। ১৫ সেকেন্ড পর সেটির বিস্ফোরণ ঘটবে। দর্শকের যদি ওই তথ্য জানা না থাকে, তাহলে রহস্যটির স্থায়িত্বকাল ওই ১৫ সেকেন্ডই। কিন্তু টেবিলের নিচে বোমা থাকার তথ্যটি দর্শক আগে থেকে জেনে গেলে এবং চরিত্রটির তা জানা না থাকলে সেই সাসপেন্স চলচ্চিত্রটির পুরোটা সময় অব্যাহত থাকবে।




